খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া ওবায়দুল্লাহ ওরফে বাদলের লাশের ছয়টি খণ্ড ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ নেওয়া হয়।
ময়নাতদন্তের সময় দেখা গেছে, বাদলের বুকের অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। স্বজনরা জানিয়েছেন, লাশের বর্তমান অবস্থার কারণে ময়নাতদন্ত ছয়টি খণ্ড নিয়েই সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বুকের অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করা হয় এবং লাশ সাত খণ্ডে ভাগ করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়। পুলিশ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাত জুড়ে নয়াপল্টন, গুলিস্তান ও কমলাপুর এলাকা থেকে লাশের দুটি হাত, দুটি পা এবং মাথা উদ্ধার করে। আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে এসব খণ্ডিত অংশ শনাক্ত করা হয় বাদলের হিসেবে। ঘটনার প্রধান আসামী হিসেবে শাহিন নামের এক রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ লাশের অন্যান্য খণ্ড উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
ওবায়দুল্লাহ (৩০) নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তাতারকান্দি গ্রামের কৃষক হামিদ মিয়ার ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। স্থানীয়রা তাকে বাদল নামে চেনতেন।
আজ সকালে বাদলের লাশ নিতে মর্গে যান তার বাবা হামিদ মিয়া, চাচা মজিবর রহমান এবং ছোট ভাই জলিল মিয়া। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ ফ্রিজিং গাড়িতে করে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় বাড়ি পৌঁছায়। নিহতের চাচা মজিবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন,
“লাশের ছয়টি খণ্ড নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। বুকের অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। পুলিশ বলেছে, সেই অংশও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আজ ইফতারের পর বাড়ির পাশে ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হবে।”
ওবায়দুল্লাহ হোমিও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনশ’ বর্গফুটের হোটেলে কাজ করার পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে মেসে থাকতেন। হাইস্কুল শেষ করে সংসারের অভাব দূর করার জন্য বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু সেই পরিকল্পনা পূর্ণ হয়নি। তিনি সর্বশেষ ১১ ফেব্রুয়ারি বাড়ি এসেছিলেন, পরদিন ভোট দেওয়ার পর আবার ঢাকায় ফিরেছিলেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃতের নাম | ওবায়দুল্লাহ (বাদল) |
| বয়স | ৩০ বছর |
| গ্রামের নাম | তাতারকান্দি, শিবপুর, নরসিংদী |
| পরিবারের সদস্য | বাবা: হামিদ মিয়া, চাচা: মজিবর রহমান, ভাই: জলিল মিয়া |
| লাশ খণ্ড | ৭ খণ্ড, ৬টি উদ্ধার, ১টি (বুক) বাকি |
| উদ্ধার স্থান | নয়াপল্টন, গুলিস্তান, কমলাপুর |
| গ্রেপ্তার আসামী | শাহিন (রুমমেট) |
| জানাজা | বাড়ি সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে, ইফতারের পর |
| দাফনের স্থান | গ্রামের কবরস্থান |
পরিবার ও স্থানীয়রা শোকস্তব্ধ। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং লাশের বাকি অংশ উদ্ধার করার পাশাপাশি হত্যার কারণ ও প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখছে।