খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির দুই নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, নির্বাচনী মাঠে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা ফৌজদারি অপরাধ ঘটলে প্রযোজ্য আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, সোমবার বগুড়া জেলা নির্বাচন অফিসের ভেতরে বিএনপির জেলা সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন এই ধস্তাধস্তিতে জড়ান। এই সময় জেলা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইন অনুসারে এমন ঘটনা গুরুতর ব্যাধি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে প্রতীক বরাদ্দ পর্যন্ত যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা আচরণবিধির আওতায় পড়বে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, মাঠে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তফসিল ঘোষণার পর যেকোনো অভিযোগ বা সংঘটিত অপরাধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দায়িত্বরত থাকবেন।
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, বগুড়া-৬ আসনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২ মার্চ। পরবর্তী ধাপগুলো হলো— ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র বাছাই, ৬ থেকে ১০ মার্চ আপিল দায়ের, ১১ মার্চ আপিল নিষ্পত্তি, ১৪ মার্চ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়, ১৫ মার্চ প্রতীক বরাদ্দ এবং ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ।
নিচে উপনির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষিপ্ত টেবিলে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| উপনির্বাচন আসন | বগুড়া-৬ (সদর) | প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শূন্য আসন |
| মনোনয়ন জমার সময় | ২ মার্চ | বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা |
| হট্টগোলের ঘটনাকারী | আলী আজগর তালুকদার হেনা ও শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন | জেলা বিএনপি নেতা, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় সংঘর্ষ |
| নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য | আচরণবিধি লঙ্ঘন কঠোরভাবে বিচার হবে | মনোনয়ন থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত সময়কালে প্রযোজ্য |
| ভোটের তারিখ ও সময় | ৯ এপ্রিল, সকাল ৭:৩০ – বিকেল ৪:৩০ | বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে |
| পরবর্তী ধাপ | ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র বাছাই, ৬-১০ মার্চ আপিল, ১১ মার্চ আপিল নিষ্পত্তি, ১৪ মার্চ প্রত্যাহার, ১৫ মার্চ প্রতীক বরাদ্দ | নির্বাচন প্রক্রিয়া ধারাবাহিক ও আইনমাফিক পরিচালিত হবে |
নির্বাচন কমিশনারের এই মন্তব্য এবং হট্টগোলের ঘটনা প্রমাণ করছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষা কতটা জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে।