খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন লালিমার ঘনঘটা! জায়নবাদী ইসরাইলের আয়রন ডোম আর অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে বৃষ্টির মতো ধেয়ে আসছে একের পর এক ইরানি মিসাইল। তেল আবিব থেকে জেরুজালেম-শহরের পর শহর এখন মিসাইলের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে ঠিক কোন কোন গোপন আর ভয়ংকর অস্ত্র ব্যবহার করছে ইরান?? সিজ্জিল, খায়বার শেকান, আর আনবিটেন হাইপারসনিক ফাত্তাহ- সবই কি এখন যুদ্ধের ময়দানে??
হামলার সূচনালগ্নে ইরান তাদের সিগনেচার শহীদ-১৩৬ কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার শুরু করে। এই ড্রোনটি দামে সস্তা হলেও এর কাজ একদম নিখুত!! মাত্র কয়েক হাজার ডলারের এই ড্রোনগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে গিয়ে ইসরাইলি রাডারকে বিভ্রান্ত করে দিচ্ছে। এই ড্রোনগুলোর ক্ষমতা ছোটোখাটো কোনো মিসাইলের চেয়ে কম নয়! ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া এই অদ্ভুত ড্রোন ব্যবহার করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। আর এখন সেই একই ড্রোন এখন ইসরাইলের জন্য দু:স্বপ্ন হয়ে দাড়িয়েছে!!!
ড্রোনের ট্রেইলারের পর ইরানের আসল সিনেমা শুরু হয় ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে। হামলার জবাব দিতে তেহরান ব্যবহার করছে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী লং রেঞ্জ মিসাইল সিজ্জিল এটি ঘণ্টায় ১৭ হাজার কিলোমিটার বেগে ২৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাৎ ইরান থেকে ছুড়লে মাত্র কয়েক মিনিটেই তা ইসরাইলে পৌঁছে যেতে পারে।
এর সাথে যোগ হয়েছে খায়বার শেকান নামের আরেকটি বিধ্বংসী মিসাইল। এই মিসাইলটি মাঝ আকাশেই নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে একে ইন্টারসেপ্ট করা বা মাঝ আকাশে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।
কিন্তু এবারের যুদ্ধে ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হলো ফাত্তাহ। এটিকে বলা হয় ইরানের প্রথম হাইপারসনিক মিসাইল। এর গতি শব্দের চেয়েও প্রায় ১৫ গুণ বেশি! ইসরাইলের লেটেস্ট ডিফেন্স সিস্টেমগুলোও এই মিসাইলের গতির কাছে হার মানতে বাধ্য! ইরান দাবি করছে, ফাত্তাহ মাত্র ৪০০ সেকেন্ডের মধ্যেই তেল আবিব ধ্বংস করতে সক্ষম। হাইপারসনিক প্রযুক্তির এই দানবটি যখন আকাশ থেকে আছড়ে পড়ে, তখন কোনো আয়রন ডোমই তাকে থামাতে পারে না। তাই এটিই এখন ইসরাইল ও আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ।
ব্যালিস্টিক মিসাইলের পাশাপাশি ইরানের ভাণ্ডারে রয়েছে লং রেঞ্জ ক্রুজ মিসাইল পাভেহ। এটি অনেকটা নিচু দিয়ে উড়ে যায় এবং পাহাড়-পর্বত বা রাডারের চোখ এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। ১৬৫০ কিলোমিটার রেঞ্জের এই ক্রুজ মিসাইলগুলো ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটি আর এয়ারবেসগুলোকে টার্গেট করে ছোড়া হচ্ছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দাদের দাবি, ইরানের হাতে এখনো এমন কিছু ‘সিক্রেট উইপন’ আছে যা তারা চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য জমিয়ে রেখেছে। তাছাড়া মাটির নিচের বাঙ্কারে পারমানবিক শক্তিমত্তা পরীক্ষার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে চারিদিকে। সবমিলিয়ে, নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে ইসরাইলী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরানী মিলিটারি!