খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
দেশের ব্যাংকিং খাতের পরিচালনা ব্যয় সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে ব্যাংকের শাখা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাড়ার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অঞ্চলভেদে ভাড়ার একটি সর্বোচ্চ সীমা বা ‘ক্যাপ’ নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ভাড়া হলে ব্যাংকগুলোকে আর প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো এখন থেকে তাদের নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়েই নতুন শাখা খোলা, ব্যবসাকেন্দ্র স্থানান্তর বা বিদ্যমান ভাড়ার চুক্তি নবায়ন করতে পারবে। তবে এই সায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে:
স্বার্থসংশ্লিষ্টতা: যদি কোনো ভবনের মালিক ব্যাংকের কোনো পরিচালক বা তার পরিবারের সদস্য কিংবা কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হন, তবে ভাড়া নির্ধারিত সীমার নিচে হলেও বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।
স্থানান্তর ও প্রধান কার্যালয়: বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো শাখা বা কেন্দ্র স্থানান্তর করতে চাইলে কিংবা প্রধান কার্যালয় ও বড় কোনো বিভাগ ভাড়ায় নিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবুজ সংকেত লাগবে।
যৌক্তিকতা: শুধুমাত্র সর্বোচ্চ সীমা মেনে চললেই হবে না, বরং ভবনের অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা এবং ফ্লোর ভেদে ভাড়ার হার অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বিভাগীয় শহর, পৌরসভা এবং গ্রামীণ এলাকার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ার কাঠামো নির্ধারণ করেছে। নিচে বিভিন্ন বিভাগের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ ভাড়ার (প্রতি বর্গফুট) একটি তুলনামূলক ছক উপস্থাপন করা হলো:
| বিভাগীয় শহর/অঞ্চল | সিটি করপোরেশন এলাকা (টাকা) | ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা (টাকা) | পল্লি বা গ্রামীণ এলাকা (টাকা) |
| ঢাকা | ১০৪ | ২৮ | ২৪ |
| চট্টগ্রাম | ৬১ | ২৭ | ২০ |
| বরিশাল | ৪৮ | ২০ | ১৪ |
| রংপুর | ৪৫ | ১৭ | ১৩ |
| সিলেট | ৪০ | ২২ | ১৬ |
| ময়মনসিংহ | ৩৬ | ১৯ | ১৪ |
| রাজশাহী | ৩৪ | ২৫ | ১৩ |
| খুলনা | ৩৪ | ২১ | ১৩ |
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক মাসে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংকসহ বেশ কিছু বেসরকারি ব্যাংক তাদের নতুন শাখা বা প্রধান কার্যালয় ভাড়ার জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস ঝুলে ছিল। অনেক ক্ষেত্রে নয় মাস অতিবাহিত হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সিদ্ধান্ত না আসায় ভবন মালিকরা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে ভবন ভাড়া দিয়ে দিচ্ছিলেন। এতে ব্যাংকগুলোর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল এবং ব্যবসার গতি কমে আসছিল।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর নেতারা নবনিযুক্ত গভর্নরের সাথে সাক্ষাৎ করে এই সমস্যাটি তুলে ধরেন। তারা দাবি জানান যে, ভাড়ার বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে রেখে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব পর্ষদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হোক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের এই যৌক্তিক দাবি আমলে নিয়েই এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর ফলে এখন থেকে ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং ব্যাংকগুলো আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।