খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা কঠিন—সেটি নতুন করে উপলব্ধি করল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫–০ গোলের পরাজয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলে নিজেদের অবস্থান এবং প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ যখন তুলনামূলক দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি লিগ খেলে এশিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চে অংশ নেয়, তখন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে টিকে থাকা কঠিন হয়ে ওঠে। কোচ পিটার বাটলার আগেই উচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ না পাওয়ায় মাঠে তার প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। ফলে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হয়ে উঠেছে।
এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ফলাফল যাই হোক—জয় বা পরাজয়—সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হতে পারে অভিজ্ঞতা। দক্ষিণ এশিয়ার সীমা ছাড়িয়ে এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে গেলে প্রস্তুতির মান কতটা উন্নত হওয়া প্রয়োজন, তা এই ম্যাচগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ছিল দৃশ্যমান পার্থক্য। প্রথম ম্যাচে চীনের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ এবং দূরপাল্লার পাসের মোকাবিলা করে বাংলাদেশ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছিল। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সেই প্রতিরোধ অনেকটাই ভেঙে পড়ে। প্রতিপক্ষের আক্রমণ এতটাই ধারাবাহিক ছিল যে গোলসংখ্যা পাঁচের বদলে আরও বেশি হলেও বিস্ময়ের কিছু থাকত না।
ম্যাচের পরিসংখ্যানই দুই দলের শক্তির ব্যবধান তুলে ধরে। পুরো ম্যাচে উত্তর কোরিয়া বাংলাদেশের গোলমুখে ৩১টি শট নেয়, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যভেদী। বিপরীতে বাংলাদেশ একবারও প্রতিপক্ষের গোলমুখে শট নিতে পারেনি।
| পরিসংখ্যান | বাংলাদেশ | উত্তর কোরিয়া |
|---|---|---|
| মোট শট | ০ | ৩১ |
| লক্ষ্যে শট | ০ | ১১ |
| গোল | ০ | ৫ |
| কর্নার | ১ | ৯ |
| বল দখল | ৩২% | ৬৮% |
যদিও স্কোরলাইন বড়, তবু বাংলাদেশের কিছু পারফরম্যান্স প্রশংসার দাবি রাখে। গোলরক্ষক মিলি আক্তার বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন। পাঁচটি গোল হজম করলেও আরও কয়েকটি শক্তিশালী শট তিনি দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন।
রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছিল লড়াইয়ের মনোভাব। শামসুন্নাহার সিনিয়র, নবীরণ খাতুন, আইরিন খাতুন, কোহাতি কিসকু ও আফঈদা খন্দকার শুরুতে উত্তর কোরিয়ার দ্রুত আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে দুই উইং দিয়ে আসা আক্রমণ ঠেকাতে লেফটব্যাক শামসুন্নাহার এবং রাইটব্যাক কোহাতি বেশ কয়েকবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রথমার্ধে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ এতটাই তীব্র ছিল যে পাঁচ ডিফেন্ডারের পাশাপাশি মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা ও মনিকা চাকমাকেও রক্ষণে নেমে আসতে হয়। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করলেও আক্রমণভাগে কার্যকর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া ক্রস, লং শট ও দ্রুত পাসের সমন্বয়ে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে যায়।
বিশ্ব ফুটবলে উত্তর কোরিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তারা বাংলাদেশের (১১২তম) চেয়ে ১০৩ ধাপ এগিয়ে। দলটি চারবার নারী বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং দশবার এশিয়ান কাপে খেলে তিনবার শিরোপা জিতেছে। সাম্প্রতিক দশ ম্যাচে তাদের হার মাত্র একটি।
এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার অবশ্যই হতাশার। তবে একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সামনে নতুন করে ভাবার সুযোগও তৈরি করেছে—কীভাবে প্রস্তুতি উন্নত করা যায়, আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো যায় এবং দলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা যায়।