খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) যেমন ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও জনপ্রিয় লিগ হিসেবে পরিচিত, ঠিক তেমনই সম্প্রতি এই লিগের এক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ পুরো দেশকে চাঞ্চল্যকর করেছে। কানপুরের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন গরিমা তিওয়ারি, যিনি ভারতীয় ক্রিকেটার অমিত মিশ্রের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছেন।
৩৫ বছর বয়সী গরিমা, যিনি পেশায় মডেল, কানপুরের অতিরিক্ত সিভিল জজ (সিনিয়র ডিভিশন) আদালতে অভিযোগটি দায়ের করেন। তার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে স্বামী অমিত মিশ্র এবং তার পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়মিতভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে মিশ্রর বাবা শশীকান্ত মিশ্র, মা বীনা মিশ্র, ভাই অমর মিশ্র, ভাবি রিতু মিশ্র এবং বোন স্বাতী মিশ্রও আছেন।
গরিমা জানান, ২০১৯ সালে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তার পরিচয় হয় অমিত মিশ্রের সঙ্গে। প্রায় তিন বছর সম্পর্কের পর ২৬ এপ্রিল ২০২১ সালে কানপুর ক্লাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর গরিমার দাবি, মিশ্র ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুক হিসেবে তার পরিবারের কাছে একটি হোন্ডা সিটি গাড়ি এবং ১০ লাখ রুপি দাবি করতে শুরু করেন। বিয়ের সময় তার পরিবার ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি দিতে সক্ষম হলেও, পরবর্তীতে অতিরিক্ত অর্থের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
গরিমা অভিযোগ করেছেন যে মদ্যপ অবস্থায় অমিত মিশ্র তাকে প্রায়ই মারধর করতেন, গালাগালি করতেন এবং অনেক সময় খেতে দিতেন না। এছাড়া মডেলিং থেকে উপার্জিত তার অর্থও স্বামী কেড়ে নিতেন। প্রায়ই তাকে তালাকের হুমকিও দেওয়া হতো। দীর্ঘ নির্যাতনের ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া গরিমা শেষ পর্যন্ত মডেলিং ক্যারিয়ার ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এক পর্যায়ে হতাশায় তিনি ফিনাইল পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
গরিমা আরও জানিয়েছেন, একাধিকবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পরও কোনো এফআইআর গ্রহণ করা হয়নি, যা তিনি মিশ্র পরিবারের প্রভাবের ফল বলে মনে করেন। তার আইনজীবী করিম আহমেদ সিদ্দিকি বলেন, “পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তাই আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।”
| অভিযোগের ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| যৌতুক দাবি | হোন্ডা সিটি গাড়ি ও ১০ লাখ রুপি |
| শারীরিক নির্যাতন | মদ্যপ অবস্থায় মারধর, খেতে না দেওয়া |
| মানসিক নির্যাতন | গালাগালি, অর্থ কেড়ে নেওয়া, তালাকের হুমকি |
| প্রভাবিত পুলিশ ব্যবস্থা | একাধিকবার অভিযোগের পরও কোনো এফআইআর গৃহীত হয়নি |
| আত্মহত্যার চেষ্টা | ফিনাইল পান খেয়ে, পরে হাসপাতালে ভর্তি |
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে ক্রীড়াবিশ্বের উজ্জ্বল নামকেও ব্যক্তিগত জীবনের অমানবিক আচরণের দায়ে প্রশ্নের মুখে আনা হচ্ছে।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ যে, যতই একজন ব্যক্তি সমাজে ধনী বা সুপরিচিত হোক না কেন, আইন এবং ন্যায়ের নজর তার ওপরও প্রযোজ্য।