খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চেঁড়াঘাটে প্রায় দুইশ বছর আগে নির্মিত ছয় গম্বুজ মসজিদ আজও সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়ভাবে ‘কায়েম বিশ্বাসের মসজিদ’ নামে পরিচিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনা উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে দমদম এলাকার নৌ-খালের কোল ঘেঁষে ছায়া-সুনিবিড় পরিবেশে অবস্থিত।
মসজিদের নির্মাণকাল বাংলা ১২৬৯ (ইংরেজি ১৮৬২), যা প্রমাণ করে এটি প্রায় ১৬৪ বছর ধরে এ অঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। পাতলা ইট ও চুন-সুড়কির গাঁথুনিতে নির্মিত এই মসজিদটি ১২ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| মোট গম্বুজ | ৬টি |
| দরজা সংখ্যা | ৭টি |
| পিলার সংখ্যা | ১০টি |
| মিনার | ১০টি |
| উচ্চতা | প্রায় ১৫ ফুট |
| ধারণ ক্ষমতা | একসাথে ১০০+ মুসল্লি |
মসজিদটির ছাদ ১০টি পিলারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা স্থাপত্যগত দৃঢ়তা ও সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি মসজিদটির নতুন সিঁড়ি নির্মাণ ও সম্প্রসারণ কাজ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদের নির্মাতা কায়েম বিশ্বাস ছিলেন একজন প্রভাবশালী গাঁতিদার। ভারতের মুর্শিদাবাদের জমিদার দুর্গাপদ চৌধুরীর সঙ্গে তার বিরোধের পর প্রাণনাশের হুমকি আসে। পরবর্তীতে ক্ষমা প্রার্থনার শর্ত হিসেবে জমিদার একটি মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেন। সেই শর্ত পূরণে কায়েম বিশ্বাস কলকাতা থেকে নির্মাণ শ্রমিক ও উপকরণ এনে নিজ গ্রামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. আবু নসরের লেখা ‘কলারোয়া উপজেলার ইতিহাস’ গ্রন্থেও এই নির্মাণ ঘটনার উল্লেখ আছে।
মসজিদটি কেবল ইবাদতখানা নয়, এটি স্থানীয় ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। স্থানীয়রা স্ব-উদ্যোগে সংস্কার ও সংরক্ষণে কাজ করছেন। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে এটি আরও টেকসইভাবে রক্ষা করা সম্ভব। স্থানীয়রা চান, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগে মসজিদটি সংরক্ষণ করা হোক, যাতে এটি দেশের সঙ্গে দেশের বাইরের দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
উপসংহার:
চেঁড়াঘাট ছয় গম্বুজ মসজিদ কেবল একটি প্রাচীন স্থাপনা নয়, এটি কলারোয়ার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের জীবন্ত দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই নিদর্শন রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।