খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিহিংসাত্মক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরানের আক্রমণের তীব্রতা এবং পরিকল্পনা চেয়েও বেশি ছিল, যা তাদের প্রস্তুতির মাত্রাকে প্রমাণ করে। এই হামলায় শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, মার্কিন দূতাবাস এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও লক্ষ্যবস্তুতে পড়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রমণের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য থাকলেও, অন্তত ১১টি স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংখ্যাটি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্থাপনার প্রায় অর্ধেক। নিউইয়র্ক টাইমস তাদের স্যাটেলাইট চিত্র এবং ভিডিও যাচাই করে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি স্থাপনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। হামলার ফলে দুইটি স্থাপনায় সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। আক্রমণ করা স্থাপনাগুলোর মধ্যে ছিল সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস, কুয়েতের আলি আল সালেম এয়ারবেস, কাতারের আল উদেইদ এয়ারবেস এবং বাগদাদের ক্যাম্প বুয়েরিং। আল উদেইদ এয়ারবেস মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টগন জানিয়েছে, হামলার ফলে বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তবে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।
ইরান বিভিন্ন ধরণের লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালিয়েছে, যার মধ্যে আছে আল উদেইদ, আলি আল সালেম, আল ধাফরা এয়ারবেস, ক্যাম্প বুয়েরিং এবং পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর। এ ছাড়া, টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার উপাদানেও হামলা করা হয়েছে। শক্তিশালী রাডার ব্যবহার করে আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করার এই ব্যবস্থা প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের।
বেসামরিক স্থাপনা থেকেও ইরান লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট এবং কুয়েত সিটি ও সৌদি আরবের রিয়াদে দূতাবাসে হামলার কারণে সাময়িকভাবে এগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নিম্নে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:
| দেশ | স্থাপনা | ধরন | ক্ষয়ক্ষতির ধরন |
|---|---|---|---|
| সৌদি আরব | প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস | সামরিক ঘাঁটি | ক্ষয়ক্ষতি ও সাময়িক কার্যক্রম বন্ধ |
| কুয়েত | আলি আল সালেম এয়ারবেস | সামরিক ঘাঁটি | ক্ষয়ক্ষতি, সেনা নিহত |
| কাতার | আল উদেইদ এয়ারবেস | সামরিক ঘাঁটি | ক্ষয়ক্ষতি ও পুনঃস্থাপনার প্রক্রিয়া চলমান |
| বাহরাইন | পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর | সামরিক ঘাঁটি | প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি ডলারের ক্ষতি |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | দুবাই কনস্যুলেট | বেসামরিক | সাময়িক বন্ধ |
| কুয়েত | দূতাবাস | বেসামরিক | সাময়িক বন্ধ |
| সৌদি আরব | রিয়াদ দূতাবাস | বেসামরিক | সাময়িক বন্ধ |
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং স্থাপনা রক্ষা করতে ব্যয়বহুল উদ্যোগ নিয়েছে। তবুও ইরান পরিকল্পিতভাবে স্থাপনার ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করছে।