ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। দুই দিনে—সোমবার ও মঙ্গলবার—মোট ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ডিপোতে পৌঁছেছে। বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় পার্বতীপুর ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব নিশ্চিত করেছেন, ডিজেল পুরোপুরি সংরক্ষণাগারে পৌঁছেছে।
ডিপোর ব্যবস্থাপক জানান, “নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পার্বতীপুর রেলহেড পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পৌঁছাতে মোট ৬০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এটি দেশের উত্তরের কৃষিনির্ভর জেলা ও যানবাহনের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তরের আটটি জেলা ও বিভিন্ন সেচ প্রকল্পে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা, পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি ও রেলপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ঝুঁকি কমানো।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আমদানি করা হবে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই চুক্তি কার্যকর থাকবে।
পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের পরিসংখ্যান
| বছর | সরবরাহকৃত ডিজেল (মেট্রিক টন) |
|---|---|
| ২০২৩ | ৩৫,৭১৮ |
| ২০২৪ | ২৮,২০৪ |
| ২০২৫ | ১,২৪,২১৬ |
| ২০২৬ (চলতি বছর) | ১,৮০,০০০ (চুক্তি অনুযায়ী) |
ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ইতিমধ্যেই ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল গ্রহণ করেছে। এই আমদানির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, যার একটি অংশ বিপিসি নিজস্ব অর্থায়নে এবং বাকিটা ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় আরও একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যার মাধ্যমে আগামী চার মাসের মধ্যে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানি করা হবে।
এই সরবরাহ ব্যবস্থার ফলে দেশের উত্তরের কৃষি ও শিল্প খাত, সেচ প্রকল্প এবং যানবাহন চলাচলে জ্বালানি সংকট কমানোর পাশাপাশি পরিবহণ ঝুঁকি কমানো সম্ভব হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা উভয় দিক থেকে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
এই উদ্যোগের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার মাধ্যমে উত্তরের জেলা ও জনপদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।