খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
প্রতি সপ্তাহেই একই দৃশ্য ধীরে ধীরে আদুর জীবনে এক দীর্ঘ ক্লান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১২ বছর বয়সী এই কিশোর প্রতিদিন নিজের ফুটবল বুট বাঁধে, মাঠে নেমে দৌড়ায়, পাস দেয়, গোল করার চেষ্টা করে—দলের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে থাকে। কিন্তু রোববার আসে, ম্যাচের দিন, আর সেই দিনই তার জন্য কষ্টের শুরু। গ্যালারিতে বসে অন্যদের খেলা দেখা ছাড়া কোনো সুযোগ নেই তার, এবং এই অভিজ্ঞতা তাকে ধীরে ধীরে মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
আদু ক্যামেরুন থেকে এসেছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর তেনেরিফে একটি ছোট স্থানীয় ক্লাব তাকে অনুশীলনে সুযোগ দেয়, কিন্তু অফিশিয়াল ম্যাচে তার নামার অনুমতি নেই। তার পালক মা-বাবা, আনা ও এদুয়ার্দো, তাকে দুই বছর ধরে লালন করছেন। তাদের মতে, ফুটবল আদুর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
স্কুল থেকে ফিরে মাত্র ১০ মিনিট সময় থাকলেও আদু বল নিয়ে খেলে; না পারলে ফুটবল ভিডিও দেখে নিজের প্যাশন ধরে রাখে। কিন্তু ছুটির দিনে যখন ক্লাবের ম্যাচ হয়, সে মাঠে নামতে পারে না। আদুর পালক মা বলেন, “সে অনুশীলনে সর্বদা থাকে, কিন্তু ম্যাচে নামতে পারে না। এখন সে বাড়িতে থেকে ফলাফল পরে জেনে নেয়।”
এই সমস্যা শুধু আদুর জন্য নয়। দলের অন্য খেলোয়াড়রাও অনুশীলনে আদুকে দেখে, কিন্তু ম্যাচে তাকে দেখতে পায় না। কোচ, সতীর্থরা প্রায় প্রতিদিন প্রশ্ন করে: ‘তোমার রেজিস্ট্রেশন কি হয়েছে?’ কিন্তু কেউ নিশ্চিত উত্তর জানে না।
সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফিফার ‘রেগুলেশনস অন দ্য স্ট্যাটাস অ্যান্ড ট্রান্সফার প্লেয়ার্স’ ধারা ১৯। ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো খেলোয়াড় আন্তর্জাতিকভাবে দলবদল করতে পারবে না। এই নিয়মের পেছনে রয়েছে মানবপাচার ও বাণিজ্যিক শোষণ প্রতিরোধের উদ্দেশ্য।
ফিফা ছোট ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ করছে। একটি বিদেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড়ের রেজিস্ট্রেশন করতে হলে নথিপত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয়:
| শর্ত | বিস্তারিত ব্যাখ্যা |
|---|---|
| অভিভাবক সম্পর্ক | শিশুর প্রকৃত মা-বাবা বা বৈধ পালক পরিবারের অনুমতি থাকতে হবে |
| আবাসিক দূরত্ব | ক্লাব এবং বাসস্থানের মধ্যে দূরত্ব ১০০ কিমি সীমার মধ্যে হতে হবে |
| আইনগত স্বীকৃতি | স্থানীয় অভিভাবকত্বকে ফিফা গ্রহণ করে, তবে মূল অভিভাবকের অনুমতি প্রমাণ করতে হয় |
আদু স্পেনে ছোট নৌকা বা ‘কায়াকো’ পথে এসেছে, জীবন বাঁচাতে; কিন্তু ফুটবল খেলতেও সে সমস্যায়। ফিফার এই জটিল প্রশাসনিক নিয়মে তার রেজিস্ট্রেশন আটকে আছে। তিন বছরে সে মাত্র তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে, কিন্তু অনুশীলনে অংশগ্রহণ করেছে প্রায় ২৫০ বার।
আদু নিজেও ফিফাকে চিঠি লিখেছে: “আমি অন্য বাচ্চাদের মতো খেলতে চাই। অনুশীলনে থাকলেও মাঠে নামতে পারি না। সবাই জানতে চায় আমি কবে খেলব, কিন্তু আমি জানি না।”
ক্লাব ও পালক পরিবার সমস্ত নথি জমা দিয়েছে। তবু ফিফার নিয়মে প্রতিটি ধাপে নতুন চ্যালেঞ্জ আসে। আদুর জন্য ফুটবল শুধু খেলা নয়; এটি তার মানসিক স্থিতি এবং জীবনের আনন্দ। পরিবারের আশা, সেই দিনটি আসবে, যখন আদু মাঠে নামতে পারবে, এবং সেদিন শুধুই উৎসবের দিন হবে—ফলাফল নয়, উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।