খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ধরণের সাফল্য আশা করেছিলেন, তা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি মিলছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক ফলাফল যাই হোক, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নীতি ও সামরিক অভিযান জনমতের পক্ষে তেমন সমর্থন পাননি। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, এবং তেলের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ধীরে ধীরে প্রভাব পড়ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের প্রতি গ্যালনের দাম ৩.৫০ ডলারের ওপরে চলে গেছে—এটি ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার পর সর্বোচ্চ। এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন, কৃষি, খাদ্য ও খুচরা খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
| খাত | প্রভাব | মন্তব্য |
|---|---|---|
| পরিবহন | অতিরিক্ত ব্যয় | গ্রাহকের ওপর চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা |
| কৃষি | সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি | খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি |
| খুচরা | জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি | উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ বাড়বে |
| বিমান পরিবহন | জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় | টিকিট মূল্য বৃদ্ধি সম্ভাব্য |
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি তেলের দাম বছরের বেশির ভাগ সময় প্রতি ব্যারেল প্রায় ১৪০ ডলারের কাছাকাছি থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য বাধা বা সামরিক হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হলে স্বল্প মেয়াদে তেলের দাম দ্রুত কমবে। তিনি মনে করেন, তেলের বর্তমান মূল্য যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য ‘খুব সামান্য মূল্য’। কিন্তু বিশ্লেষকরা দেখাচ্ছেন, তার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবতা মিলছে না। ট্রাম্প এখনো মনে করছেন, সামরিক অভিযান ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র জিতবে।
একই সময়, ট্রাম্পের নীতি যেমন—উচ্চ শুল্ক আরোপ, অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ, ফেডারেল কর্মসংস্থান কমানো—এ পর্যন্ত তেমন বড় ক্ষতি সৃষ্টি করেনি। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে তেল আমদানি কমেছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সামরিক নয়, রাজনৈতিক। অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ জনগণের বিরোধিতা। মূল্যস্ফীতি ও যুদ্ধ ব্যয়ের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই পরিস্থিতি ‘কাল হয়ে’ দাঁড়াতে পারে।
সর্বোপরি, মাদুরোকে আটক করার মতো ছোট সাফল্য থাকলেও, ইরানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়ালে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে। ট্রাম্পের দ্বৈত আচরণ—সামরিক জয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও বাস্তব চ্যালেঞ্জকে হালকা—রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় অজানা রয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপ মিলিয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী সম্ভাবনা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে বিষয়টি বিশ্লেষক ও জনমতের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে।