খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও নির্ধারণী ওয়ানডে ম্যাচে ২৯১ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর ১১ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সিরিজ জয়ের রেকর্ডও গড়ে উঠল। ২০১৫ সালের পর আবারো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে জয়লাভ করল বাংলাদেশ।
রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ভালো হয়নি। মাত্র ১৭ রানের মধ্যে দলের তিনটি উইকেট হারানো সফরকারীদের দারুণ চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন সাহিবজাদা ফারহানকে ৬ রানে বোল্ড করেন। পরের ওভারে নাহিদ রানা মাজ সাদাকাতকে ৬ রানে আউট করেন, এবং নিজের দ্বিতীয় ওভারে রিজওয়ানকে ৪ রানে ফেরান তাসকিন।
তিন উইকেট হারানো পাকিস্তান হাল ধরার চেষ্টা চালালেও গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ যথেষ্ট প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। ৩৯ বলে ২৯ রানে ঘুরি ও ৪৫ বলে ৩৪ রানে সামাদ আউট হন। দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সালমান আলি আগা, যিনি দলের জয়ের সম্ভাবনা ধরে রাখেন।
সালমান আলি আগা সাদ মাসুদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। সাদ ৩৮ রানে আউট হলেও সালমান দলের দিকে আশা ধরে রাখেন। পরে ফাহিম আশরাফকে ৯ রানে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। দলের জয় নিশ্চিত করতে ১০৬ রানে থামেন সালমান, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ২৭৯ রানে থামে।
বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ চারটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলার, মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি, নাহিদ রানা দুটি ও রিশাদ হোসেন একটি উইকেট নেন।
টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান। ওপেনার সাইফ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত যথাক্রমে ৩৬ ও ২৭ রান করেন। এরপর তানজিদ হাসান তামিম অভিষেক সেঞ্চুরি তুলে নেন, ১০৭ বলে ১০৭ রান করেন। চতুর্থ উইকেটে লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় ৬৮ রান যোগ করেন। ইনিংসের শেষ দিকে আফিফ ও তাওহীদ হৃদয় অপরাজিত থাকেন যথাক্রমে ৫ ও ৪৮ রানে।
| ক্রিকেটার | দেশের দল | রান/ওইকেট | উল্লেখযোগ্য ঘটনা |
|---|---|---|---|
| সালমান আলি আগা | বাংলাদেশ | ১০৬ | জয়ের জন্য দলের মূল স্তম্ভ |
| তানজিদ হাসান তামিম | বাংলাদেশ | ১০৭ | অভিষেক ওয়ানডে শতক |
| তাসকিন আহমেদ | বাংলাদেশ | ৪ উইকেট | পাকিস্তানের ব্যাটিং ভেঙে দেয়ার মূল বোলার |
| মুস্তাফিজুর রহমান | বাংলাদেশ | ৩ উইকেট | গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন |
| শাহিন শাহ আফ্রিদি | পাকিস্তান | ৩৭ | শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক |
বাংলাদেশ দলের এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ধারাবাহিক জয় নিশ্চিত হলো, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দর্শকরা মাঠে এবং টেলিভিশনের পর্দায় এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ উপভোগ করেছেন।