খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতকে আরও অন্তত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি জানিয়েছেন, আগামী তিন সপ্তাহের জন্য বিস্তারিত সামরিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের পর আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে। এদিকে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজি সরবরাহেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর ক্ষতি করা। শোশানি বলেন, “আমরা চাই ইরানের সরকারকে যতটা সম্ভব দুর্বল করা এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমস্ত সক্ষমতা কমিয়ে আনা।” তিনি আরও জানিয়েছেন, ইরানের ভেতরে এখনও হাজার হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যা প্রয়োজনীয় হলে আক্রমণের আওতায় আনা হবে।
সাম্প্রতিক দিনে, সোমবার ইসরায়েলি বিমান বাহিনী রাতভর ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ইরানি ড্রোন হামলার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় আঘাত পৌঁছায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় এখনও জানা নেই। এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং এলএনজি পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
সাম্প্রতিক দিনে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের সঙ্গে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুনরায় চালু করা যায়। তবে মিত্র দেশগুলো কূটনৈতিকভাবে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সামরিক পরিকল্পনার মেয়াদ | অন্তত ৩ সপ্তাহ, পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চলমান |
| প্রধান লক্ষ্য | ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা, নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল করা |
| সাম্প্রতিক হামলা | ইরানজুড়ে বিমান হামলা, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ |
| আন্তর্জাতিক প্রভাব | হরমুজ প্রণালি বন্ধ, তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি সম্ভাবনা |
| আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ | ট্রাম্পের আহ্বানে জোট গঠন, মিত্র দেশগুলো কূটনৈতিক সতর্কতা অবলম্বন |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতির জন্যও বড় প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালির আংশিক বন্ধের কারণে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইরানের প্রতিরোধ একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপকে কঠিন করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক পরিকল্পনা আরও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের স্থিতিশীলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।