খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
সুন্দরবনের গভীর এলাকায় বন দস্যু ‘নানা ভাই বাহিনী’-এর কবল থেকে ১০ দিন পর ছয় জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। মুক্তিপণ দাবিতে জিম্মি থাকা জেলেদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এই অভিযান স্থানীয় ও জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকারিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট আশিকুর ইসলাম ইমন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “সুদৃঢ় তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির ভিত্তিতে তৎপর অভিযান চালানো হয়েছে। জেলেরা নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সূত্রে জানা গেছে, ১০ দিন আগে সুন্দরবনের তিনটি মাছ ধরার নৌকা থেকে ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা, ‘নানা ভাই বাহিনী’-এর বন দস্যু সদস্যরা, মুক্তিপণ দাবিতে তাদের আটকে রাখে। জেলেদের মধ্যে রয়েছেন শফিকুল, আল আমিন, ইসমাইল, রেজোয়ান, মিয়ারাজ ও রমজান।
কোস্টগার্ডের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানটি তৎপরতার সঙ্গে শুরু হয় সোমবার, যখন কবির নামের একজন স্থানীয় ব্যক্তি অপহরণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরপর রাতভোরের অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে জেলেদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কোস্টগার্ডের এই অভিযান দক্ষ পরিকল্পনা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উদ্ধারকৃত জেলেদের তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| নাম | নৌকা সংখ্যা | অপহরণের তারিখ | উদ্ধার তারিখ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| শফিকুল | ১ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
| আল আমিন | ১ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
| ইসমাইল | ২ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
| রেজোয়ান | ২ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
| মিয়ারাজ | ৩ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
| রমজান | ৩ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
লেফটেন্যান্ট ইমন আরও জানান, “উদ্ধার অভিযান চলাকালীন নিরাপত্তা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদেরকে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
এই ঘটনার মাধ্যমে সুন্দরবনের বনদস্যু কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ডের তৎপরতা পুনরায় প্রমাণিত হলো। স্থানীয় জেলেরা জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপে তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং তারা পুনরায় নিরাপদে নদীতে মাছ ধরার কাজে ফিরে যেতে পারবে।
উদ্ধারকৃত জেলেদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মানসিক সমর্থনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই করা হয়েছে, যাতে তারা পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। কোস্টগার্ড এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে বনদস্যু সমস্যার মোকাবিলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।