খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশ উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহানকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (LIC) একটি আইনি নোটিশ প্রদান করেছে। নোটিশে দাবী করা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও স্থগিত ঘোষিত একটি ফ্যাসিস্ট সংগঠনের নেতা ও কর্মীদের জামিন মুলতুবি বা মুক্তির পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) নির্দেশনা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে।
গত সোমবার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন ও শাহীনুজ্জামান এই নোটিশ ডিআইজিকে প্রদান করেন। নোটিশে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে নির্দেশনা প্রত্যাহার না করলে হাইকোর্টে রিট করা হবে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ডিআইজি শাহজাহান একটি ‘বিশেষ নির্দেশনা’ জারি করেন। সেই নির্দেশনায় বলা হয়, জামিনে মুক্ত হওয়া নেতা–কর্মীরা যদি সংগঠনকে পুনর্গঠন বা মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় করতে সক্ষম হন, তবে তাঁদের মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তবে যেসব নেতা–কর্মী সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম নয়, তাদের ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজন আপাতত নেই।
ডিআইজির পাঠানো নির্দেশনা রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে ছিল। সংশ্লিষ্ট জেলা সমূহের তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| জেলা | নির্দেশনা প্রযোজ্য | মন্তব্য |
|---|---|---|
| রাজশাহী | হ্যাঁ | সক্রিয় নেতা–কর্মীর ক্ষেত্রে শোন অ্যারেস্ট |
| চাঁপাইনবাবগঞ্জ | হ্যাঁ | সক্রিয় নেতা–কর্মীর ক্ষেত্রে শোন অ্যারেস্ট |
| নওগাঁ | হ্যাঁ | সক্রিয় নেতা–কর্মীর ক্ষেত্রে শোন অ্যারেস্ট |
| নাটোর | হ্যাঁ | সক্রিয় নেতা–কর্মীর ক্ষেত্রে শোন অ্যারেস্ট |
| পাবনা | হ্যাঁ | সক্রিয় নেতা–কর্মীর ক্ষেত্রে শোন অ্যারেস্ট |
| সিরাজগঞ্জ | হ্যাঁ | সক্রিয় নেতা–কর্মীর ক্ষেত্রে শোন অ্যারেস্ট |
| বগুড়া | হ্যাঁ | সক্রিয় নেতা–কর্মীর ক্ষেত্রে শোন অ্যারেস্ট |
| জয়পুরহাট | হ্যাঁ | সক্রিয় নেতা–কর্মীর ক্ষেত্রে শোন অ্যারেস্ট |
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফয়জুল কবির জানিয়েছেন, রেজিস্ট্রি করা ডাকযোগে নোটিশ ডিআইজির কাছে পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, “নোটিশে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনগত পথেই বিষয়টি সমাধান করা হবে।”
এ বিষয়ে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধুমাত্র জানান, “এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাই না। যা করণীয়, তা আইনগতভাবে করব।” তবে নোটিশ হাতে পেয়েছেন কি না, সে প্রশ্নে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।
এই আইনি নোটিশের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জামিনে মুক্ত হওয়া নেতা–কর্মীদের অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো কেবল সক্রিয় সদস্যদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, এবং নির্দেশনা আইন অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।