খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ঈদুল ফিতরের দিনের একটি সামান্য বিরোধ রূপ নেয় সহিংস সংঘর্ষে। মাংসের ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা শেষে রক্তক্ষয়ী ঘটনায় পরিণত হয়। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার নওয়াগ্রামে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নওয়াগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ইসরাইল শেখ, অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন খায়রুল মোল্যা। ঈদের দিন (শনিবার) ইসরাইল শেখের পক্ষ একটি গরু জবাই করে। অভিযোগ রয়েছে, সেই গরুর মাংস বণ্টনের সময় খায়রুল মোল্যা পক্ষের এক সদস্যকে বঞ্চিত করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে তীব্র উত্তেজনার জন্ম দেয়।
ঈদের আনন্দের আবহ কাটতে না কাটতেই এই বিরোধ নতুন করে জ্বলে ওঠে। সোমবার রাতে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ‘ছররা গুলি’ ছোড়ার ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এতে নারী-পুরুষসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে ১৪ জনকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক অলোক কুমার বাগচী জানান, আহতদের শরীরে ছররা গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁরা শঙ্কামুক্ত আছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়। জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) রবিন হালদার জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত আছে।
নিচে ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | নওয়াগ্রাম, কালিয়া, নড়াইল |
| ঘটনার সময় | সোমবার রাত সাড়ে ৮টা |
| ঘটনার কারণ | ঈদের মাংস বণ্টন নিয়ে বিরোধ |
| জড়িত পক্ষ | ইসরাইল শেখ ও খায়রুল মোল্যা গ্রুপ |
| আহতের সংখ্যা | কমপক্ষে ২৫ জন |
| হাসপাতালে ভর্তি | ১৪ জন |
| আটক | ১৪ জন |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | দেশীয় অস্ত্র ও ছররা গুলি |
স্থানীয়রা বলছেন, সামান্য একটি বিষয় থেকে শুরু হলেও পুরনো দ্বন্দ্বের কারণে ঘটনাটি বড় আকার ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামাঞ্চলে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে নজরদারি জোরদারের কথা জানানো হয়েছে।