খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের কারণে আকাশপথে যোগাযোগে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও পড়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) একদিনেই বিমানবন্দরে আরও সাতটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্যগামী দুটি বহির্গমন ও দুটি আগমনী ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বহির্গমন ফ্লাইট এবং এয়ার আরাবিয়ার একটি বহির্গমন ও একটি আগমনী ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান, “গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ১৮৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল নয়। তাই ফ্লাইট চলাচলের অনিশ্চয়তা চলতে পারে।”
যদিও কিছু ফ্লাইট সীমিত পরিসরে সচল রয়েছে। বুধবার বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের আটটি আগমনী এবং চারটি বহির্গমন ফ্লাইট নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়েছে। তবে সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটের ফ্লাইটগুলো এখনও স্থবির। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, যাত্রীদের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক নিয়মাবলীর কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের ফলে যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা অতিরিক্ত খরচ, হোটেল ও যাতায়াতের অস্থিরতা মোকাবেলা করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ সকলকে আপডেট রাখতে এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করছে।
নিচে বাতিল ও সচল ফ্লাইটের প্রাথমিক তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| বাতিল ফ্লাইট সংখ্যা | ৭টি (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৪, ইউএস-বাংলা ১, এয়ার আরাবিয়া ২) |
| সচল ফ্লাইট সংখ্যা | আগমনী ৮, বহির্গমন ৪ |
| প্রভাবিত রুট | শারজাহ, দুবাই, আবুধাবি |
| বাতিলের কারণ | মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি |
| মোট বাতিল ফ্লাইট (২৮ ফেব্রুয়ারি–২৫ মার্চ) | ১৮৬টি |
| যাত্রী প্রতিক্রিয়া | ভোগান্তি, অতিরিক্ত খরচ ও যাতায়াত সমস্যা |
| বিমানবন্দর প্রতিক্রিয়া | সতর্কতা ও বিকল্প ব্যবস্থা প্রদানের উদ্যোগ |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ফ্লাইট চলাচলে অনিশ্চয়তা তত বাড়বে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো নিরাপত্তা বজায় রাখতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে দেশের বাণিজ্যিক ও পর্যটন কর্মকাণ্ডও প্রভাবিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীদের সুবিধার্থে শর্তসাপেক্ষে বিকল্প রুট এবং হোটেল সংযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া যাত্রীদের বিমানের সময়সূচি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার জন্য হটলাইন ও অনলাইন আপডেট চালু রাখা হয়েছে।
মোটকথা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর একটি সাংগঠনিক ও নিরাপত্তামূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে, যা সামনের দিনগুলোতে আরও জটিল হতে পারে।