খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
রাজধানী ঢাকার লালবাগ থানাধীন ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবাবগঞ্জ লেন এলাকায় একটি গোপন মাদক আস্তানার সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলা থেকে বিপুল পরিমাণ বাংলা মদসহ এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে এলাকাবাসী ওই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগ পেয়ে লালবাগ থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বাসাটিতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ঘরের ভেতর থেকে দুটি বড় ড্রাম, কয়েকটি প্লাস্টিকের পাত্র এবং পলিথিনে সংরক্ষিত অবস্থায় প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সময় অভিযুক্ত নারী মাদক ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে কিছু মদ বাথরুমে গিয়ে ঢেলে দেন এবং কিছু অংশ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই কিছু মাদক নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক নারী দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন এবং তার বাসাটি নিয়মিত মাদক সেবন ও অবৈধ বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বিভিন্ন বয়সের লোকজনের নিয়মিত যাতায়াত ছিল, যার মধ্যে তরুণদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ছিল।
আরও অভিযোগে বলা হয়, বাড়ির মালিকের ছেলে সাজ্জাদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছিল। এমনকি ওই ঘরটি বিশেষভাবে মাদক বাণিজ্যের সুবিধার্থে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন।
আটক নারী নিজেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বলে দাবি করেন এবং জানান, তিনি স্বামীসহ কয়েক মাস ধরে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একই ভবনের নিচতলার আরেকটি কক্ষে বাড়িওয়ালার ছেলে সাজ্জাদ মাদক সেবন করতেন এবং তাকে মাদক ব্যবসায় জোরপূর্বক জড়িত করার চেষ্টা করতেন।
একটি পৃথক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, মাদক ব্যবসার অর্থসংক্রান্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকার হিসাব নিয়ে সাজ্জাদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এছাড়া সাজ্জাদ ও তার এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ২০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ৪ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগও তিনি তুলেছেন।
অন্যদিকে, বাড়িওয়ালার ছেলে সাজ্জাদ স্বীকার করেছেন যে তিনি অতীতে মাদক সেবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভবনের নিচতলায় একটি আড্ডাস্থল ছিল, যেখানে মাঝে মাঝে বন্ধুরা একত্র হতেন। তবে তিনি বর্তমানে মাদক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের কার্যক্রম চললেও তা নজরদারির বাইরে ছিল।
নিচে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | নবাবগঞ্জ লেন, লালবাগ, ঢাকা |
| অভিযান পরিচালনা | লালবাগ থানা পুলিশ |
| উদ্ধারকৃত মাদক | প্রায় ৩–৩.৫ লিটার বাংলা মদ |
| আটক ব্যক্তি | এক নারী ভাড়াটিয়া |
| অভিযোগ | দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসা ও সেবন কেন্দ্র |
| স্থানীয় দাবি | বাড়ির মালিকপক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ |
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াসিন আলী জানান, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ আরও বেশি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।