খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে অন্যতম উজ্জ্বল নাম সেলিন ডিওন। ‘টাইটানিক’ চলচ্চিত্রের অমর গান ‘মাই হার্ট উইল গো অন’-এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। তবে শুধু এই একটি গান নয়, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি পপ সংগীতের এক অনন্য সম্রাজ্ঞী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আজ তাঁর জন্মদিনে তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও সাফল্যের দিকে ফিরে তাকানো যায়।
১৯৬৮ সালে কানাডার কুইবেক প্রদেশে জন্ম নেওয়া Celine Dion ছিলেন ১৪ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। দরিদ্র কিন্তু সংগীতময় পরিবারে বড় হয়ে ওঠা সেলিন ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করেন। তাঁর মা ও ভাই মিলে একটি গান তৈরি করেন, যা শুনে মুগ্ধ হন সংগীত ব্যবস্থাপক রেনে অ্যাঞ্জেলিল। তিনিই সেলিনের প্রতিভা আবিষ্কার করেন এবং নিজের বাড়ি বন্ধক রেখে তাঁর প্রথম অ্যালবাম তৈরি করেন—যা পরবর্তী সময়ে বিশ্বসংগীত ইতিহাসে এক অসাধারণ অধ্যায় রচনা করে।
প্রথমে ফরাসি ভাষার গান দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সেলিন দ্রুতই ইংরেজি সংগীতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্ব পপ সংগীতের অন্যতম শীর্ষ কণ্ঠশিল্পী। তাঁর কণ্ঠের শক্তি, আবেগ ও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
সেলিন ডিওনের সংগীতজীবন অসংখ্য হিট গানে ভরপুর। তাঁর অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে ২৫ কোটি কপিরও বেশি। নিচে তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য গান ও অর্জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো—
| গান | গুরুত্ব |
|---|---|
| মাই হার্ট উইল গো অন | ‘টাইটানিক’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি |
| দ্য পাওয়ার অব লাভ | আবেগঘন ব্যালাডের উদাহরণ |
| বিকজ ইউ লাভড মি | বিশ্বজুড়ে অন্যতম জনপ্রিয় প্রেমের গান |
| ইটস অল কামিং ব্যাক টু মি নাউ | শক্তিশালী কণ্ঠের প্রদর্শন |
| আই অ্যাম অ্যালাইভ | অনুপ্রেরণামূলক সাফল্যের গান |
সেলিনের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় তাঁর দীর্ঘদিনের ম্যানেজার রেনে অ্যাঞ্জেলিলের সঙ্গে সম্পর্ক। বয়সের বড় ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সম্পর্ক ছিল গভীর ও স্থায়ী। রেনে ছিলেন তাঁর ক্যারিয়ারের প্রধান স্থপতি। ২০১৬ সালে রেনের মৃত্যু সেলিনের জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। একই সময়ে তিনি তাঁর ভাইকেও হারান। এই কঠিন সময়ে ভেঙে পড়লেও তিনি সংগীত থেকে দূরে সরে যাননি।
২০২২ সালে সেলিন প্রকাশ করেন যে তিনি স্টিফ পারসন সিনড্রোম নামে একটি বিরল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত। এই রোগে শরীরের পেশিতে অস্বাভাবিক টান পড়ে, চলাফেরা ও গান গাওয়া কঠিন হয়ে যায়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় অত্যন্ত জটিল। তবুও সেলিন নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে সুস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শারীরিক অসুস্থতার মাঝেও সেলিন হার মানেননি। ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি গান পরিবেশন করে বিশ্বকে আবারও মুগ্ধ করেন। এটি ছিল দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর অন্যতম আবেগঘন প্রত্যাবর্তন।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা যায়, তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় স্থিতিশীল। তিনি আবারও পূর্ণাঙ্গ কনসার্টে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী সময়ে প্যারিসে নতুন কনসার্টের মাধ্যমে তাঁর মঞ্চে নিয়মিত প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
চার দশকের বেশি সময় ধরে সেলিন ডিওন শুধু একজন গায়িকা নন, তিনি আবেগ, সংগ্রাম ও অনুপ্রেরণার এক জীবন্ত প্রতীক।