খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে চৈত্র ১৪৩২ | ৩০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সারা দেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি প্রতিরোধে সরকারের চলমান বিশেষ অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৩ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৬৪টি জেলায় মোট ৩ হাজার ১৬৮টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ ব্রিফিংয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া জ্বালানি তেলের মধ্যে সর্বাধিক অংশ ছিল ডিজেল। পাশাপাশি অকটেন ও পেট্রলও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে অবৈধ মজুত ও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে এক হাজারের বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| খাত | পরিমাণ/সংখ্যা |
|---|---|
| মোট অভিযান | ৩,১৬৮টি |
| উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেল | ২,০৮,৬৫০ লিটার |
| ডিজেল | ১,৩৯,৯৬৫ লিটার |
| অকটেন | ২২,৫৩৯ লিটার |
| পেট্রল | ৪৬,১৪৬ লিটার |
| মামলা | ১,০৫৩টি |
| কারাদণ্ড | ১৬টি |
| জরিমানা আদায় | ৭৫.১৬ লাখ টাকা |
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। নিয়মিত জাহাজ আগমনের কারণে ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত বজায় আছে। মার্চ মাস শেষে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে জানানো হয়।
এছাড়া আগামী কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন উৎস থেকে নতুন করে বড় পরিমাণ জ্বালানি তেল দেশে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত সরবরাহ যুক্ত হচ্ছে এবং ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকেও জাহাজে করে তেল আমদানি করা হচ্ছে। সরকার রাশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
মুখপাত্র জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসেই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়। আগামী মাসের জন্য মূল্যবৃদ্ধির একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে এসেছে, যা বর্তমানে মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। এতে সম্ভাব্য ভর্তুকির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতিতে অনেক দেশ ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে, তবে দেশে এখনো সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
অবৈধ মজুত রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম মাঠে কাজ করছে। ঈদের সময় অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করায় কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে অযথা জ্বালানি মজুত না করার এবং সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।