খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
দেশের জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক মূল্য প্রবণতা এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আগামী মাসের জন্য ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেলের মূল্য কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং বাজারে কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।
তিনি আরও জানান, ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকারি মজুদে ডিজেলের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। এই মজুদকে স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি এপ্রিল মাসের জন্য প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী মাসে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশে মোট জ্বালানি ব্যবহারের মধ্যে ডিজেলের অংশই সবচেয়ে বেশি। কৃষি সেচ, পণ্য পরিবহন এবং গণপরিবহন খাতে এই জ্বালানির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ডিজেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা সরকারের জন্য একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয়।
অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রোলের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে অনেক কম হওয়ায় এসব জ্বালানির ব্যবস্থাপনা অপেক্ষাকৃত সহজ বলে উল্লেখ করা হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়ে থাকে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী বর্তমান মজুদ ও আসন্ন আমদানির ভিত্তিতে দেশে স্বল্পমেয়াদে কোনো জ্বালানি ঘাটতির সম্ভাবনা নেই।
| বিষয় | বর্তমান তথ্য |
|---|---|
| ডিজেল মজুদ | প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন |
| এপ্রিলের জন্য আমদানি পরিকল্পনা | প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন |
| প্রধান ব্যবহার খাত | কৃষি সেচ, পরিবহন, গণপরিবহন |
| ডিজেলের অংশ | মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ |
| সংকটের সম্ভাবনা | আপাতত নেই |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল থাকলে নতুন মূল্য নির্ধারণের পর অভ্যন্তরীণ বাজারেও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। তবে বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়লে ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের চাপ তৈরি হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য বিবেচনায় রেখেই নতুন মূল্য ঘোষণা করা হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।