এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
অভিনন্দন
বাংলা চলচ্চিত্রের রূপালি জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র—আলমগীর। আশি ও নব্বইয়ের দশকে যিনি তাঁর অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন।
অভিনয়ের প্রতিটি ফ্রেমে তিনি ছিলেন সাবলীল, বিশ্বাসযোগ্য এবং অনন্য। পারিবারিক নাটক থেকে সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক গল্প থেকে ফোক-ফ্যান্টাসি—সব ধারার চলচ্চিত্রেই তিনি রেখে গেছেন সাফল্যের স্বাক্ষর। শুধু অভিনেতা নন, প্রযোজক, গায়ক ও পরিচালক হিসেবেও তিনি কুড়িয়েছেন সমান খ্যাতি ও সম্মান।
তাঁর অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার—শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে সাতবার এবং পার্শ্বচরিত্রে দুইবার।
২০২৪ সালে অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একুশে পদক—যা তাঁর গৌরবময় পথচলার এক উজ্জ্বল মাইলফলক।
১৯৭৩ সালে ‘আমার জন্মভূমি’ চলচ্চিত্র দিয়ে রূপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করে, ‘জিঞ্জির’-এর মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন আলোচিত নায়ক। এরপর একের পর এক সফল চলচ্চিত্র—“মা ও ছেলে”, “ভাত দে”, “সত্য মিথ্যা”, “স্বামী স্ত্রী”, “সখিনার যুদ্ধ”সহ অসংখ্য ছবিতে তাঁর অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
বিশেষ করে শাবানা-র সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও আলোচিত জুটি—যা আজও দর্শকের মনে নস্টালজিয়া জাগায়।
দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন—একজন শিল্পী কতটা বহুমাত্রিক হতে পারেন। ছাত্র থেকে বিচারক, গ্রাম্য যুবক থেকে শহুরে প্রতিবাদী—সব চরিত্রেই তিনি ছিলেন সমান দক্ষ ও প্রাণবন্ত।
‘আগুনের আলো’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন, আর ‘নিষ্পাপ’ দিয়ে শুরু করেন পরিচালনার যাত্রা—যা পরবর্তীতে “একটি সিনেমার গল্প”-এর মতো কাজের মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।
১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায় জন্ম নেওয়া এই মহাতারকা আজও আমাদের গর্ব, আমাদের ভালোবাসা।
এই বিশেষ দিনে প্রিয় শিল্পীর জন্য রইল অফুরন্ত শুভেচ্ছা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা।
আপনার শিল্পযাত্রা আরও আলোকিত হোক—বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করুক নতুন উচ্চতায়।
শুভ জন্মদিন, প্রিয় আলমগীর!