খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং ছাত্রী হোস্টেলে বহিরাগত বখাটেদের অনুপ্রবেশের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। গত ১ এপ্রিলের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।
গত ১ এপ্রিল হাসপাতালের শিশু বিভাগে কর্তব্যরত অবস্থায় রোগীর স্বজনদের হাতে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ইন্টার্ন নারী চিকিৎসকদের হোস্টেলে বহিরাগত বখাটেদের প্রবেশের অভিযোগ ওঠে। এই জোড়া ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং হাসপাতালে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তামিম হাবিব তার বক্তব্যে বলেন:
“সীমিত জনবল ও অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলে আমরা যখন রোগীদের সেবা দিতে দিনরাত এক করছি, তখন চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক ও মানসিক আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু লজ্জাজনক নয়, বরং চিকিৎসাসেবার জন্য একটি বড় অন্তরায়। হাসপাতালে প্রবেশের ক্ষেত্রে আধুনিক গেটপাস সিস্টেম এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় দুষ্কৃতকারীরা সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়ছে।”
আন্দোলনকারী চিকিৎসকেরা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরেছেন। তাদের দাবিগুলো নিচে সারণিবদ্ধ করা হলো:
| ক্রমিক | দাবির বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| ০১ | আইনি ব্যবস্থা | হামলায় জড়িত দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান। |
| ০২ | নিরাপত্তা জোরদার | ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মস্থলে স্থায়ী ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। |
| ০৩ | প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ | হাসপাতালে আধুনিক গেটপাস সিস্টেম চালু করে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করা। |
| ০৪ | হোস্টেল নিরাপত্তা | ইন্টার্ন ছাত্রী হোস্টেলে সার্বক্ষণিক নারী নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ ও সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি। |
| ০৫ | আইনি সুরক্ষা | কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ওপর হামলা প্রতিরোধে ‘চিকিৎসক সুরক্ষা আইন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া। |
সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই নড়বড়ে যে, খোদ চিকিৎসকেরাই এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা জানান, যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রশাসন দৃশ্যমান এবং স্থায়ী কোনো সমাধান দিচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও, নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তারা এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জের এই স্বনামধন্য চিকিৎসাকেন্দ্রে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এই ধর্মঘটের ফলে বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে সেবা নিতে আসা রোগীরা কিছুটা দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করেছেন যে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ছাড়া চিকিৎসাসেবা প্রদান করা অসম্ভব। তারা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা হয় এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ বুলবুল আহমেদ, ইউসুফ আলী, হাবিবুর রহমান, গোলাম মর্তুজা, শাহরিয়া সিদ্দিক ও আনিকা তাবাসসুম। তারা সম্মিলিতভাবে ঘোষণা করেন যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ছাড়বেন না তারা। চিকিৎসকদের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা সাধারণ জনগণের মধ্যেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, যা নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও নিন্দিত হচ্ছে।