খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণ ও শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব ও দাবি উপস্থাপন করেছেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ব্যাংক সুদের হার কমানো, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) পুনরায় সম্প্রসারণ, ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা শিথিলকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা বৃদ্ধি।
আজ সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গভর্নর বেশ কয়েকটি প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, বর্তমানে উচ্চ সুদের হার শিল্প উৎপাদন ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। তাই সুদের হার ধাপে ধাপে এক অঙ্কে নামিয়ে আনা জরুরি। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে উৎপাদনমুখী খাত শক্তিশালী হয় এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।
রপ্তানি খাতের সহায়তায় গঠিত ইডিএফ তহবিল নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, একসময় এই তহবিলের আকার ছিল প্রায় সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমানে কমে প্রায় দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তাঁরা এটিকে ধাপে ধাপে পাঁচ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী সময়ে আট বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন।
এ ছাড়া ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করার দাবি জানানো হয়। বর্তমানে তিন মাস ঋণ পরিশোধ না করলেই কোনো প্রতিষ্ঠানকে খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হয়। ব্যবসায়ীরা এই সময়সীমা ছয় মাস করার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে তার অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানও স্বয়ংক্রিয়ভাবে খেলাপি হয়ে যাওয়ার বিধান বাতিলের দাবি জানানো হয়। ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধার মেয়াদ বর্তমান চার থেকে পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করার প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়।
জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে কম সুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিল্প খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
নিচে বৈঠকে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | প্রস্তাবিত পরিবর্তন |
|---|---|---|
| ব্যাংক সুদের হার | উচ্চ পর্যায়ে বিদ্যমান | ধাপে ধাপে এক অঙ্কে নামানো |
| ইডিএফ তহবিল | প্রায় দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার | পাঁচ বিলিয়ন থেকে আট বিলিয়ন ডলার |
| ঋণ খেলাপি শ্রেণিকরণ | তিন মাসে খেলাপি ঘোষণা | ছয় মাস করা |
| ঋণ পুনঃতফসিল মেয়াদ | চার থেকে পাঁচ বছর | দশ বছর |
| বেসরকারি ঋণ প্রবাহ | তুলনামূলক সীমিত | বৃদ্ধি করার আহ্বান |
সব মিলিয়ে বৈঠকটি দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ী নেতাদের আশা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিবাচক মনোভাব দ্রুত বাস্তব নীতিগত পদক্ষেপে রূপ নেবে, যা শিল্প ও রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করবে।