খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) আয়োজিত নারী ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’ শুরু হতে আর মাত্র কিছুদিন বাকি। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অবশেষে সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সব আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হলো। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে না পাকিস্তান নারী ফুটবল দল।
আগামী ২৫ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ভারতের গোয়ার ফাতোরদাতে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের অংশগ্রহণে এই আসরটি আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও পাকিস্তানের ফুটবল ফেডারেশন এবং সে দেশের সরকার শেষ পর্যন্ত দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের (PFF) পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো কঠোর বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে দল নিবন্ধনের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় আয়োজক দেশ ভারত তাদের অংশগ্রহণ বাতিল বলে গণ্য করছে।
ভারতের একজন শীর্ষ ক্রীড়া কর্মকর্তার মতে, ভারত সরকার পাকিস্তানি অ্যাথলেটদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজতর করার আশ্বাস দিলেও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। মূলত সীমান্ত উত্তেজনা এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বৈরিতাই এই ক্রীড়া ইভেন্টে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন সবসময়ই মাঠের খেলায় ছায়া ফেলেছে। বিশেষ করে ক্রিকেট এবং ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলাগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে, আর মাল্টি-নেশন টুর্নামেন্টগুলোতেও পাকিস্তান বা ভারত একে অপরের দেশে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: নিরাপত্তা ইস্যুতে পাকিস্তান ক্রিকেট দল ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, যার ফলে হাইব্রিড মডেলে শ্রীলঙ্কায় তাদের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে হয়েছে।
২০২৫ এশিয়া কাপ হকি: টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পাকিস্তান তাদের হকি দল প্রত্যাহার করে নেয়।
২০২৩ চেন্নাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: তবে এর ব্যতিক্রমও ছিল। ২০২৩ সালে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত হকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তান দল অংশ নিয়েছিল, যা ছিল সম্পর্কের বরফ গলার এক ঝলক। কিন্তু সেই সৌহার্দ্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
পাকিস্তানের অনুপস্থিতিতে এবারের আসরে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়টিতে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জন্য রাখা স্লটগুলো বাতিল করে নতুন করে গ্রুপ বিন্যাস ও সূচি তৈরি করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বাকি ছয়টি দেশ তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে।
অংশগ্রহণকারী দলগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | দেশের নাম | গত আসরের অবস্থান | প্রধান শক্তি |
| ০১ | বাংলাদেশ | চ্যাম্পিয়ন | শক্তিশালী আক্রমণভাগ ও দলীয় বোঝাপড়া। |
| ০২ | ভারত | সেমি-ফাইনালিস্ট | আয়োজক দেশের সুবিধা ও অভিজ্ঞতা। |
| ০৩ | নেপাল | রানার্স-আপ | শারীরিক সক্ষমতা ও উঁচু মানের রক্ষণভাগ। |
| ০৪ | ভুটান | গ্রুপ পর্ব | উদীয়মান তরুণ প্রতিভা। |
| ০৫ | শ্রীলঙ্কা | গ্রুপ পর্ব | কৌশলী মিডফিল্ড। |
| ০৬ | মালদ্বীপ | গ্রুপ পর্ব | হার না মানা মানসিকতা। |
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের না থাকা টুর্নামেন্টের জৌলুস কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের উন্নয়নের জন্য সাতটি দেশের অংশগ্রহণই অপরিহার্য ছিল। পাকিস্তানের নারী ফুটবল দল বর্তমানে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে এই টুর্নামেন্ট তাদের জন্য হতে পারত দারুণ এক অভিজ্ঞতা।
তবে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের অনুপস্থিতিতে টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। নির্ধারিত ২৫ মে গোয়ার মাঠে বল গড়াবে। বাংলাদেশ দল তাদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে প্রস্তুত, অন্যদিকে ভারত চাইবে ঘরের মাঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেতে।
দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব কোনো নতুন ঘটনা নয়। তবে ক্রীড়ামোদীদের প্রত্যাশা ছিল, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মাঠের লড়াইয়ে সব দেশ অংশগ্রহণ করবে। পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানো সেই প্রত্যাশায় আবারও বড় এক ধাক্কা দিল। এখন দেখার বিষয়, ছয় দলের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার মাথায় ওঠে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।