খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
ফেনী শহরের মহিপাল এলাকায় অবস্থিত বাস টার্মিনাল এখন মাদক ও জুয়ার একটি অপ্রতিরোধ্য আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানি ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের দাবি, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফ্লাইওভারসংলগ্ন এই টার্মিনাল এলাকায় গড়ে ওঠে মাদক সেবন ও জুয়ার রমরমা আসর। এতে পুরো পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুগন্ধা, যমুনা, যাত্রীসেবা ও শান্তি পরিবহনের টার্মিনাল এলাকায় সন্ধ্যার পরপরই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেলযোগে একদল লোক জড়ো হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কবির আহমেদের ছেলে শিপন টার্মিনালের নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে থাকলেও তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে মাদক ও জুয়ার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার সঙ্গে ইমন, সেনবাগের পলাশ এবং বালিগাঁও ইউনিয়নের আকরামপুরের মাইন উদ্দিনসহ ১০-১২ জনের একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিপন নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পাওয়ার পর টার্মিনাল এলাকায় তার প্রভাব আরও বেড়ে যায়। তিনি নিজেকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পরপরই টার্মিনালের আশপাশে মাদক সেবন, জুয়া এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড এমনভাবে বিস্তার লাভ করে যে বাস মালিকরা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করতে ভয় পান।
পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের অভিযোগ, টার্মিনালের এই পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিনের হিসাব-নিকাশ ও অর্থ আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বাস মালিকরা সন্ধ্যার পর সেখানে গেলে অনেক সময় মাদক ও জুয়ার আসরের কারণে তাদের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরে আসতে বাধ্য হন। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে।
এক শ্রমিক নেতা জানান, প্রায় তিন শতাধিক চালক ও হেলপার এই টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাদের একটি বড় অংশ মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে পরিবহন মালিকরা কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন।
বাস মালিক আরিফুর রহমান (কালবেলা) বলেন, টার্মিনালের পাশে একটি ভবনেও নিয়মিত মাদক ও জুয়ার আসর বসে, যেখানে বিভিন্ন পরিচিত মুখের উপস্থিতি দেখা যায়। এতে পরিবেশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
| বিষয় | অভিযোগ/তথ্য |
|---|---|
| কার্যক্রম | মাদক সেবন ও জুয়া |
| সময় | প্রতিদিন সন্ধ্যার পর |
| স্থান | মহিপাল বাস টার্মিনাল এলাকা |
| সিন্ডিকেট সদস্য | ১০-১২ জন |
| প্রধান অভিযুক্ত | শিপন (নৈশপ্রহরী) |
| প্রভাব | শ্রমিক ও মালিকদের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | আতঙ্ক ও অসন্তোষ |
শ্রমিক নেতা শহীদ উল্যাহ বলেন, মাদক ব্যবসার কারণে সন্ধ্যার পর টার্মিনালে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এটি এখন একটি “নিরাপদ মাদক আস্তানা” হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, শিপনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ফেনী মডেল থানার ওসি জানান, এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী ও কারবারিদের আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে জুয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পেলে গোপন অভিযানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে মহিপাল টার্মিনাল এলাকা মাদক ও অপরাধের আরও বড় কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।