খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে চৈত্র ১৪৩২ | ৮ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা কলতাপাড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন-এ জ্বালানি তেলের তথ্য গরমিল ধরা পড়েছে। ফিলিং স্টেশনের মালিক উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আজিজুল হক, আর ব্যবস্থাপক জলিল হোসেন (৩০)। গত ছয় দিনের জ্বালানি তেলের হিসাবপত্রে প্রায় ৫০ হাজার লিটার তেলের অসম্পূর্ণতা ধরা পড়ায়, ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা (মনি)। অভিযান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী সার্টিফিকেট অফিসার আফসারুল ইসলাম ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ বিষয়টি বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
ফিলিং স্টেশনের তেল প্রাপ্তি এবং বিতরণের হিসাব নিম্নরূপ:
| তারিখ | ডিপো থেকে প্রাপ্ত তেল (লিটার) | ব্যবস্থাপক স্বীকার করা তেল (লিটার) | বিতরণ তথ্য |
|---|---|---|---|
| ১ এপ্রিল | ১৩,৫০০ | ০ | বিক্রি হয়নি |
| ২ এপ্রিল | ১৩,৫০০ | ০ | বিক্রি হয়নি |
| ৩ এপ্রিল | ৯,০০০ | ৯,০০০ | ৪ এপ্রিল বিতরণ |
| ৪ এপ্রিল | ১৩,৫০০ | ০ | বিক্রি হয়নি |
| ৬ এপ্রিল | ৯,০০০ | ০ | বিক্রি হয়নি |
| ৭ এপ্রিল | ৯,০০০ | ০ | বিক্রি হয়নি |
মোট বরাদ্দ: ৫৮,৫০০ লিটার, যেখানে ব্যবস্থাপক স্বীকার করেছেন মাত্র ৯,০০০ লিটার। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বোঝা যায়, ফিলিং স্টেশনটি অসৎভাবে তেল ব্যবসা বা অবৈধ মজুতের সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন উপস্থিত দোকানি, মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, এই মাসে ফিলিং স্টেশনে পেট্রল বিক্রি হয়েছে মাত্র একদিন। জ্বালানি বিতরণ তদারক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ৩ এপ্রিল বরাদ্দ প্রাপ্ত তেল ৪ এপ্রিল বিতরণ করা হয়।
মালিক আজিজুল হক বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালতে ব্যবস্থাপক সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি। আদালতের মাধ্যমে আমরা সব সত্য তুলে ধরব।”
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানিয়েছেন, “জ্বালানি তেলের তথ্য গরমিলের কারণে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।”
此次 ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, জ্বালানি তেল বিতরণের স্বচ্ছতা ও পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রশাসন ফিলিং স্টেশনগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে অবৈধ কার্যক্রম রোধের লক্ষ্যে কার্যক্রম জোরদার করেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও সতর্ক হয়ে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষের জ্বালানি তেলের নিশ্চয়তা বজায় থাকে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।