পাকিস্তান সুপার লিগে খেলতে গিয়ে কাঁধে চোট পেয়ে আগেভাগেই দেশে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশের তরুণ ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল আগামী একুশ এপ্রিল পর্যন্ত, কিন্তু ইনজুরির কারণে তাকে নির্ধারিত সময়ের আগেই দল ছাড়তে হয়। চোট পাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে তার প্রাথমিক স্ক্যান করা হলেও পরবর্তীতে দেশে ফিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসা বিভাগের বিশেষজ্ঞরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে বড় কোনো জটিল আঘাত ধরা পড়েনি বলে জানা গেছে। কাঁধের মাংসপেশির হালকা টান ও আঘাতের কারণে আপাতত তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, পরীক্ষায় গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং নিয়মিত পুনর্বাসনের মাধ্যমে দ্রুত সেরে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগেই ইমনকে ফিট করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দলীয় চিকিৎসা বিভাগ আশাবাদী যে সঠিক পরিচর্যা ও বিশ্রাম পেলে তিনি এক সপ্তাহের মধ্যেই অনুশীলনে ফিরতে পারবেন।
পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্স দলের হয়ে খেলার সময় ইমনের পারফরম্যান্স ছিল মিশ্র। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি যথাক্রমে বারো ও চৌদ্দ রানে আউট হন। তবে তৃতীয় ম্যাচে তিনি নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখান। মাত্র উনিশ বলে পঁয়তাল্লিশ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল পাঁচটি ছক্কা। সেই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি দলে নিজের অবস্থান শক্ত করার ইঙ্গিত দেন।
চোট পাওয়ার আগে পর্যন্ত তার ব্যাটিং ফর্ম ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে হঠাৎ ইনজুরির কারণে তার ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হয়। এখন মূল লক্ষ্য দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত হওয়া।
চিকিৎসা দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে ব্যাটিং অনুশীলন, ফিটনেস ট্রেনিং এবং কাঁধের শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হবে যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের চোটের ঝুঁকি কমে।
নিচে পাকিস্তান সুপার লিগে পারভেজ হোসেন ইমনের পারফরম্যান্স সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| ম্যাচ সংখ্যা |
রান |
বিশেষ উল্লেখ |
| প্রথম ম্যাচ |
১২ |
দ্রুত আউট |
| দ্বিতীয় ম্যাচ |
১৪ |
শুরু ভালো হলেও ইনিংস বড় হয়নি |
| তৃতীয় ম্যাচ |
৪৫ |
১৯ বলে ৫ ছক্কায় ঝড়ো ইনিংস |
বর্তমানে ইমনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসকরা আশা করছেন, তিনি দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারবেন এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।