সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে ফারুক আহমদ (৪০) নামে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ২ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত ভোর রাতে বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের গোলচন্দ বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ফারুক আহমদকে আটক করা হলে তার কাছ থেকে ইয়াবার চালান উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ফারুক আহমদের বাড়ি সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম লোহারমহল গ্রামে। তিনি মৃত নূর উদ্দিনের ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করতেন।
রবিবার বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সিলেট জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক সংক্রান্ত আরও ১২টি মামলা রয়েছে, যা তার অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিস্তৃতি নির্দেশ করে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রবিবার দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে জোরদার কার্যক্রমের ফলে এ ধরনের গ্রেপ্তার বাড়ছে। বিশেষ করে ইয়াবা পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক সরবরাহ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
নিম্নে অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম |
ফারুক আহমদ (৪০) |
| পিতার নাম |
মৃত নূর উদ্দিন |
| স্থায়ী ঠিকানা |
পশ্চিম লোহারমহল, জকিগঞ্জ, সিলেট |
| গ্রেপ্তারের স্থান |
গোলচন্দ বাজার, লামাকাজি ইউনিয়ন, বিশ্বনাথ |
| গ্রেপ্তারের সময় |
শনিবার দিবাগত ভোর |
| উদ্ধারকৃত ইয়াবা |
২,৬০০ পিস |
| দায়েরকৃত মামলা |
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে |
| পূর্বের মামলা সংখ্যা |
১২টি |
| আদালতে প্রেরণ |
রবিবার দুপুর |
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় জনগণকেও এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সম্মিলিত উদ্যোগ গড়ে ওঠে।