খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গ্রীষ্মকালীন দেশীয় ফলগুলোর মধ্যে তরমুজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ তাপমাত্রার সময় এ ফলের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে তরমুজের চাহিদা ও চাষাবাদ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত চার অর্থবছরে দেশে তরমুজ উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০–২১ অর্থবছরে দেশে তরমুজ উৎপাদন ছিল ১৭ লাখ ৮৯ হাজার টন। পরবর্তী বছরগুলোতে তা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২১–২২ অর্থবছরে ২৫ লাখ ৪৭ হাজার টন এবং ২০২২–২৩ অর্থবছরে ৩৬ লাখ ৩৬ হাজার টনে পৌঁছায়। সর্বশেষ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৫২ হাজার টনে।
নিচের সারণিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোর উৎপাদন চিত্র তুলে ধরা হলো—
| অর্থবছর | তরমুজ উৎপাদন (টন) |
|---|---|
| ২০২০–২১ | ১৭,৮৯,০০০ |
| ২০২১–২২ | ২৫,৪৭,০০০ |
| ২০২২–২৩ | ৩৬,৩৬,০০০ |
| ২০২৪–২৫ | ৩৫,৫২,০০০ |
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন। উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বাজারে সরবরাহও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
বাংলাদেশে তরমুজের ভরা মৌসুম মার্চ ও এপ্রিল। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজার ও পাড়ামহল্লায় সহজলভ্য হয়ে ওঠে ফলটি। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে তরমুজের দাম কিছুটা কম ছিল। গত বছর এপ্রিলের শুরুতে প্রতি কেজি তরমুজের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যেখানে চলতি মৌসুমে একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিছু পাইকারি বাজারে দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকাও ছিল। তবে মৌসুমের শেষভাগে এসে দাম বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, গরমের কারণে চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে, ফলে দাম তুলনামূলক কম থাকে।
এদিকে, চলতি মৌসুমে তরমুজের স্বাদ নিয়ে কিছু ভোক্তা অভিযোগ জানিয়েছেন। অনেকের মতে, বাহ্যিকভাবে লাল রং ঠিক থাকলেও মিষ্টতার ঘাটতি রয়েছে এবং দ্রুত নষ্ট হওয়ার প্রবণতাও দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত সার, কীটনাশক ও হরমোন প্রয়োগ এবং দ্রুত ফল বড় করার প্রবণতা এর কারণ হতে পারে। এতে ফল পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই বাজারজাত করা হয়, যা স্বাদের ওপর প্রভাব ফেলে। আবার অতিরিক্ত বড় আকার ধারণ করলে ফলের পানির পরিমাণ বেড়ে গিয়ে মিষ্টতা কমে যেতে পারে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় চরাঞ্চলগুলোতে তরমুজ উৎপাদন বেশি হয়ে থাকে। পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, খুলনা, বাগেরহাট ও বরিশাল অঞ্চলে উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী জেলায় উৎপাদন সর্বাধিক। ভোলা জেলায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রায় ৮ লাখ টন তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে।
চাষাবাদের আর্থিক দিক বিবেচনায় দেখা যায়, উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় লাভ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকেরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতি বিঘা জমিতে চাষে খরচ হয় আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে একই জমি থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব। প্রতিটি তরমুজের ওজন সাধারণত ৪ থেকে ৫ কেজি হয়ে থাকে। বিশেষ করে নাবি জাতের তরমুজ মৌসুমের শেষ দিকে বাজারে আসে এবং সে সময় সাধারণত দাম তুলনামূলক বেশি থাকে।
সার্বিকভাবে, উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার সরবরাহ, মূল্য পরিস্থিতি এবং চাষাবাদের লাভজনকতা—এই চারটি দিক তরমুজ খাতের সাম্প্রতিক প্রবণতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।