খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলমান আসরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যাচ শেষ না হওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের মূল আকর্ষণ কম সময়ে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ খেলা হলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিটি ম্যাচ নির্ধারিত সাড়ে তিন ঘণ্টার পরিবর্তে চার ঘণ্টারও বেশি সময় নিচ্ছে। এই দীর্ঘসূত্রতা এবং ‘স্লো ওভার রেট’ নিয়ে সম্প্রতি কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার।
সাধারণত একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ বিরতিসহ ৩ ঘণ্টা থেকে ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এবারের আইপিএলে দেখা যাচ্ছে কোনো ম্যাচই নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। বিশেষ করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর একটি ম্যাচ ৪ ঘণ্টা ২২ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, যেখানে কোনো সুপার ওভার বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছিল না।
গাভাস্কারের মতে, আইপিএল বিশ্বমানের টুর্নামেন্ট হওয়া সত্ত্বেও সময়ের ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘অপেশাদারত্ব’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র আর্থিক জরিমানা করে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, কারণ বর্তমান সময়ের ক্রিকেটারদের আয়ের তুলনায় জরিমানার অঙ্ক খুবই নগণ্য।
মিড-ডে পত্রিকায় লেখা নিজের কলামে গাভাস্কার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন:
১. মাঠে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ: স্ট্র্যাটেজিক টাইম-আউট বা উইকেট পতনের সময় অতিরিক্ত ফিল্ডার বা কোচিং স্টাফদের মাঠে আসা বন্ধ করতে হবে। গাভাস্কার কিংবদন্তি রিচি বেনোর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, মাঠ কেবল খেলোয়াড় ও আম্পায়ারদের জন্য। বারবার পানির বোতল নিয়ে অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের মাঠে প্রবেশ খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করে।
২. ব্যাটসম্যানদের আগমনের সময় হ্রাস: বর্তমানে একজন ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর নতুন ব্যাটসম্যানের ক্রিজে আসার জন্য ২ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকে। গাভাস্কারের মতে, আধুনিক ক্রিকেটে ডাগআউট বাউন্ডারি সীমানার খুব কাছে হওয়ায় এই সময় কমিয়ে ১ মিনিট করা উচিত।
৩. রানের পেনাল্টি: ফিল্ডিং করা দল যদি নির্ধারিত সময়ে ওভার শেষ করতে না পারে, তবে তাদের বিপক্ষ দলকে অতিরিক্ত রান উপহার দেওয়ার নিয়ম চালুর পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।
| বিষয় | বর্তমান নিয়ম/অবস্থা | গাভাস্কারের প্রস্তাব/পর্যবেক্ষণ |
| ম্যাচ স্থায়িত্ব | গড়ে ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট – ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট | ৩ ঘণ্টার মধ্যে সমাপ্তি নিশ্চিত করা |
| নতুন ব্যাটসম্যানের আগমন | ১২০ সেকেন্ড (২ মিনিট) | ৬০ সেকেন্ড (১ মিনিট) |
| শাস্তির ধরন | ম্যাচ ফি-র নির্দিষ্ট অংশ জরিমানা | রান পেনাল্টি বা পয়েন্ট কর্তন |
| মাঠে প্রবেশ | রিজার্ভ বেঞ্চ ও স্টাফদের অবাধ যাতায়াত | নির্দিষ্ট পানীয় বাহক ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ |
| ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতা | সময়ের পরে ৩০ গজের বাইরে একজন কম ফিল্ডার | এই নিয়মের পাশাপাশি আরও কঠোর শাস্তির দাবি |
সুনীল গাভাস্কার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শাস্তি এমন হতে হবে যা সরাসরি ম্যাচের ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলে। বর্তমানে শেষ ওভারে ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে একজন ফিল্ডার কম রাখার নিয়মটি দলগুলোর মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি করে। গাভাস্কারের মতে, ওভারের মাঝে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা এবং সময় নষ্ট বন্ধ করতে হলে পয়েন্ট টেবিলের ওপর প্রভাব ফেলে এমন শাস্তির প্রবর্তন জরুরি।
তিনি মনে করেন, দলগুলো যখন বুঝবে যে সময়ের অপচয়ের কারণে তারা সরাসরি ম্যাচ হারতে পারে বা পয়েন্ট হারাতে পারে, তখনই কেবল খেলার গতি বাড়বে এবং আইপিএলের পেশাদারিত্ব বজায় থাকবে। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ততম সংস্করণের প্রাণশক্তি ধরে রাখতে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।