খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফুটবল বিশ্বে বড় এক ধাক্কা হয়ে এলো নেদারল্যান্ডসের উদীয়মান তারকা জাভি সিমন্সের ইনজুরির সংবাদ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহাম হটস্পারের হয়ে খেলার সময় হাঁটুতে গুরুতর চোট পেয়েছেন তিনি। এই চোটের ফলে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন ২৩ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
গত শনিবার প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে টটেনহামের ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে উলভস ডিফেন্ডার হুগো বুয়েনোর সঙ্গে একটি বল দখলের লড়াইয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন সিমন্স। সংঘর্ষের পরপরই তিনি মাঠে লুটিয়ে পড়েন। শুরুতে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও যন্ত্রণায় আবারও মাটিতে পড়ে যান তিনি। পরিস্থিতি গুরুতর অনুধাবন করে তৎক্ষণাৎ মেডিকেল টিমকে ডাকা হয় এবং স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে নিবিড় ডাক্তারি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সিমন্সের ডান হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে গেছে। সাধারণত এই ধরনের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে দীর্ঘ সময় এবং নিবিড় পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়। টটেনহামের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হবে। এরপর শুরু হবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।
চলতি মৌসুমে টটেনহামের হয়ে জাভি সিমন্সের উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। যদিও গোল সংখ্যার বিচারে তিনি প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব ফেলতে পারেননি, তবে দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
| ক্ষেত্র | পরিসংখ্যান (চলতি মৌসুম/ক্যারিয়ার) |
| টটেনহামের হয়ে ম্যাচ খেলেছেন | ৪১টি |
| প্রিমিয়ার লিগে শুরুর একাদশে (২৮ ম্যাচের মধ্যে) | ১৯টি |
| টটেনহামের হয়ে মোট গোল | ৫টি |
| নেদারল্যান্ডসের হয়ে মোট ম্যাচ | ৩৪টি |
| জাতীয় দলের হয়ে মোট গোল | ৬টি |
সিমন্সের এই অনুপস্থিতি টটেনহামের জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে। প্রিমিয়ার লিগে দলটি বর্তমানে অবনমন এড়ানোর কঠিন লড়াই চালাচ্ছে। ৩৪ ম্যাচ শেষে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৮তম স্থানে রয়েছে তারা। লিগে বাকি থাকা শেষ ৪ ম্যাচে সিমন্সকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে স্পার্সদের। অন্যদিকে, ১৭তম স্থানে থাকা ওয়েস্ট হামের সঙ্গে তাদের ব্যবধান মাত্র ২ পয়েন্ট।
জাতীয় দলের প্রেক্ষাপটে, নেদারল্যান্ডস তাদের অন্যতম সৃজনশীল মিডফিল্ডারকে ছাড়াই বিশ্বকাপে অংশ নিতে হবে। ২০২৬ বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে। ডাচদের অভিযান শুরু হবে ১৪ জুন জাপানের বিপক্ষে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচের মাধ্যমে। এসিএল চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে সাধারণত ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগে, যা বিশ্বকাপের আগে সিমন্সের ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে।
সিমন্স একা নন, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ইনজুরি তালিকা বেশ দীর্ঘ হচ্ছে। ইতিমধ্যে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রদ্রিগো, ফ্রান্সের উগো একিতিকে, আর্জেন্টিনার হুয়ান ফয়েথ ও হোয়াকিন পানিচেল্লি এবং জার্মানির সার্জ নাবরি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন বড় তারকার অংশগ্রহণ নিয়ে রয়েছে গভীর শঙ্কা।
লামিনে ইয়ামাল: স্পেনের এই তরুণ তুর্কির মৌসুম শেষ হয়ে গেছে ইনজুরিতে।
মোহামেদ সালাহ: গত শনিবার লিভারপুলের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, লিভারপুলের জার্সি গায়ে তিনি নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন, কারণ মৌসুম শেষেই তার ক্লাব ছাড়ার কথা।
অন্যান্য শঙ্কা: এদের মিলিতাও, আরদা গুলের ও এস্তেভাওয়ের বিশ্বকাপে খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আবেগ প্রকাশ করে সিমন্স জানিয়েছেন, জীবন মাঝে মাঝে নিষ্ঠুর হতে পারে এবং হঠাৎ করে মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়াটা মেনে নেওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন। আপাতত অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়াই তার একমাত্র গন্তব্য।