খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
যশোরের কেশবপুর পৌরসভা এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নিজের মায়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে মা গৌরী রানী অধিকারীকে (৭৫) হত্যার অভিযোগে তার মেয়ে দীপ্তি অধিকারীকে (৫০) পুলিশ আটক করেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাতে কেশবপুর পৌরসভার সাহাপাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৌরী রানী ওই এলাকার মৃত কালিপদ অধিকারীর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশি তদন্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত দীপ্তি অধিকারী কয়েকদিন আগে তার পৈত্রিক বাড়িতে মায়ের কাছে বেড়াতে এসেছিলেন। মঙ্গলবার সকালে দীপ্তির দেবর পবিত্র অধিকারী তাকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে সাহাপাড়ায় আসেন। তিনি বাড়ির দোতলায় গিয়ে গৌরী রানীকে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। একই সময়ে তিনি অভিযুক্ত দীপ্তিকে বাথরুমে অস্বাভাবিক ও বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পান।
প্রাথমিক আলামত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে দীপ্তি অধিকারী তার মায়ের ওপর আক্রমণ করেন। ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামত অনুযায়ী, তরকারি কাটার বটির কাঠের আছাড় (হাতল) দিয়ে গৌরী রানীর কপাল এবং মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করা হয়েছে। এই গুরুতর আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সাথে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত দীপ্তি অধিকারীকে আটক করা হয়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
নিচে এই ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহতের নাম | গৌরী রানী অধিকারী (৭৫) |
| অভিযুক্তের নাম | দীপ্তি অধিকারী (৫০) |
| সম্পর্ক | মা ও মেয়ে |
| ঘটনার সময় | ২৭ এপ্রিল, সোমবার দিবাগত রাত |
| ঘটনাস্থল | সাহাপাড়া, কেশবপুর পৌরসভা, যশোর |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | বটির কাঠের অংশ (আছাড়) |
| আঘাতের স্থান | কপাল ও মাথার পেছনের অংশ |
| আইনি অবস্থা | অভিযুক্ত আটক ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান |
কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, পুলিশ খবর পাওয়ার দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, অভিযুক্ত দীপ্তি অধিকারীকে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং স্থানীয়দের তথ্যমতে জানা গেছে যে, দীপ্তি অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধের নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক ও তদন্ত দল কাজ করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় সম্পর্কে আরও নিখুঁত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে সাহাপাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশি প্রহরার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।