খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটি তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, ইরান বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল একটি সাময়িক বিরতি হিসেবে দেখছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বা ‘টার্গেট ব্যাংক’ আগের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও হালনাগাদ করেছে। যুদ্ধবিরতির সময়কালকে সেনাবাহিনী অলসভাবে অতিবাহিত না করে বরং শত্রুপক্ষের দুর্বল পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করতে কাজে লাগিয়েছে। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, শত্রুপক্ষের ওপর পূর্ণ আস্থার অভাব থাকায় ইরান তাদের নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ করেনি।
ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের মতে, সেনাবাহিনী তাদের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং বিদ্যমান প্রযুক্তির আধুনিকায়নে ব্যাপক জোর দিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন যে, যদি ভবিষ্যতে পুনরায় কোনো আগ্রাসন চালানো হয়, তবে শত্রুপক্ষকে ইরানের সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং উন্নততর সামরিক সরঞ্জাম ও রণকৌশলের সম্মুখীন হতে হবে। ইরানের জন্য বর্তমান সময়টি আক্ষরিক অর্থেই একটি “যুদ্ধকালীন অবস্থা”র মতো, যেখানে প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।
নিচে ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির মূল দিকগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়বস্তু | গৃহীত কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থা |
| টার্গেট ব্যাংক | শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কৌশলগত পয়েন্টের তথ্য হালনাগাদ ও সমৃদ্ধকরণ। |
| রণকৌশল | যুদ্ধকালীন অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন ও উন্নততর লড়াইয়ের কৌশল প্রণয়ন। |
| সরঞ্জাম উৎপাদন | দেশীয় প্রযুক্তিতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র তৈরি ও বিদ্যমান অস্ত্রের পাল্লা বৃদ্ধি। |
| প্রশিক্ষণ কর্মসূচি | যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সেনাদের নিয়মিত ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা। |
| পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা | রাডার এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রুর গতিবিধি সার্বক্ষণিক তদারকি। |
ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। ব্রিগেডিয়ার আকরামিনিয়া আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের আকাশসীমা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। তাঁর মতে, সেনাবাহিনীর নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া কোনো বিরতি ছাড়াই চলছে। যুদ্ধের ময়দান থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান এই সংঘাতকে এখনো শেষ বলে বিবেচনা করছে না। বরং প্রতিটি বিরতিকে তারা তাদের সক্ষমতা যাচাই এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ হিসেবে দেখছে। শত্রুপক্ষের যেকোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপের জবাবে ইরান যে নতুন নতুন জায়গায় এবং নতুন প্রযুক্তিতে আঘাত হানতে সক্ষম, জেনারেলের বক্তব্যে সেই কঠোর বার্তাই ফুটে উঠেছে।
পরিশেষে, ইরানের সামরিক নেতৃত্বের এই অবস্থান থেকে এটি স্পষ্ট যে, তারা কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং পরিকল্পিতভাবে তাদের আক্রমণাত্মক সক্ষমতাকেও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। সেনাবাহিনীর প্রতিটি বিভাগ বর্তমানে সর্বোচ্চ যুদ্ধ প্রস্তুতির (Full Combat Readiness) মধ্যে রয়েছে।