খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিশিষ্ট তিন ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই সম্মেলনে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের ক্রিকেটে ফেরা ও তাদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিসিবির অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত সাকিব আল হাসানের ফেরা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তামিম ইকবাল সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন যেন আলোচনা কেবল সাকিবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একই পরিস্থিতির শিকার অন্য সাবেক অধিনায়কদের নিয়েও করা হয়। তিনি বলেন:
“বিগত এক থেকে দুই বছর ধরে আমরা কেবল একজন নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে নিয়ে, বিশেষ করে সাকিবকে নিয়েই কথা বলছি। তবে আমার অনুরোধ থাকবে, যখন আপনারা এই প্রশ্নটি করেন, তখন আমাদের আরও দুইজন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও দুর্জয় ভাইয়ের কথাও মাথায় রাখবেন। তারাও বর্তমানে একই রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।”
তামিম ইকবালের মতে, যেহেতু এই তিনজনই দেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার এবং জাতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাই তাদের প্রত্যেকের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সমানভাবে প্রশ্ন তোলা ও আলোচনা করা সমীচীন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পড়েছেন সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং নাঈমুর রহমান দুর্জয়। উল্লেখ্য যে:
মাশরাফি বিন মর্তুজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়: তারা দুজনেই আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।
সাকিব আল হাসান: তিনিও গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ক্রিকেটীয় পরিচয়ের বাইরে তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা বিদ্যমান। তামিম ইকবাল মনে করেন, যখন ক্রিকেটিং বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন করা হয়, তখন কেবল একজনের নাম উচ্চারণ না করে এই তিনজনের আইনি ও পেশাদার জীবন নিয়ে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।
সাকিব আল হাসানসহ বাকিদের ক্রিকেটে ফেরা বা অনুশীলনের সুবিধা প্রদানের বিষয়ে বিসিবি প্রধান অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আইনি বিষয়গুলো রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও ক্রিকেটীয় ক্ষেত্রে বোর্ড সর্বদা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিবে। তামিম ইকবালের বক্তব্যে কয়েকটি মূল দিক উঠে এসেছে:
১. উষ্ণ অভ্যর্থনা: আইনি জটিলতা সমাধান করে তারা যদি দেশে ফেরেন, তবে ক্রিকেট বোর্ড তাদের সাদরে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। তামিম একে ‘ওপেন আর্মস ওয়েলকাম’ বা উন্মুক্ত হৃদয়ে স্বাগত জানানোর সাথে তুলনা করেছেন। ২. ক্রিকেটীয় সুবিধা: অনুশীলন, ফিটনেস ট্রেনিং বা দলের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বিসিবির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল সুযোগ-সুবিধা তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ৩. সরকারের মনোভাব: সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নমনীয় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তামিম জানান যে, আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও ক্রিকেটারদের পেশাদার জীবনে বোর্ড প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে বদ্ধপরিকর।