সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। রোববার সকাল ছয়টার দিকে দক্ষিণ সুরমার তলিবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের সবাই নির্মাণশ্রমিক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান রয়েছে।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল জানিয়েছেন, নিহত শ্রমিকেরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। অপরদিকে, কাঁঠালবোঝাই একটি ট্রাক চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের দিকে আসছিল। তলিবাজার এলাকায় এসে দুটি যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপ ভ্যানটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পিকআপে থাকা শ্রমিকদের বেশির ভাগই গুরুতর আহত হন এবং আটজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্তের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিহতদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের কাজ চলছে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর সড়কের ওই অংশে সাময়িক যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে নেয়।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় |
তথ্য |
| দুর্ঘটনার স্থান |
তলিবাজার, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট |
| ঘটনার সময় |
রোববার, সকাল ৬টা |
| দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন |
ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান |
| নিহতের সংখ্যা |
৮ জন |
| নিহতদের পরিচয় |
নির্মাণশ্রমিক |
| পিকআপের গন্তব্য |
সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ |
| ট্রাকের রুট |
চট্টগ্রাম থেকে সিলেট |
| মরদেহ রাখা হয়েছে |
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গ |
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় সংগ্রহের পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। দুর্ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মূলত উদ্ধার, শনাক্তকরণ এবং তদন্ত কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।