খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
গাজীপুরের কালীগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের জরাজীর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় শিউলি বেগম নামের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও দুইজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কের শিমুলিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
নিহত শিউলি বেগম (৪৫) শিমুলিয়া এলাকার মৃত হাসেন সরকারের কন্যা এবং স্থানীয় তুমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি দুই সন্তানের জননী। বিকেলে অটোরিকশাযোগে গন্তব্যে যাওয়ার পথে শিমুলিয়া বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের নিকটবর্তী একটি খুঁটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। একটি খুঁটির পতনের ফলে বৈদ্যুতিক তারের টানে পর্যায়ক্রমে আরও ১৩ থেকে ১৪টি খুঁটি সড়কের ওপর আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনায় অটোরিকশার যাত্রী তন্ময় (১৬) ও পূজা রানী দেবনাথ (২০) মারাত্মকভাবে আহত হন। আহতদের প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহতের নাম ও পেশা | শিউলি বেগম, সহকারী শিক্ষিকা |
| আহতের সংখ্যা | ২ জন (তন্ময় ও পূজা রানী) |
| ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটির সংখ্যা | ১৪টি (সিমেন্টের তৈরি) |
| দুর্ঘটনার স্থান | শিমুলিয়া এলাকা, কালীগঞ্জ |
| সড়কের নাম | টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়ক |
| যান চলাচল বন্ধের সময় | প্রায় ৩ ঘণ্টা |
দুর্ঘটনার পর বিদ্যুৎ বিভাগের খুঁটি স্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সুরক্ষা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুতের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির মোট দৈর্ঘ্যের অন্তত ছয় ভাগের এক ভাগ অংশ মাটির গভীরে প্রোথিত থাকা আবশ্যক। ৫০ থেকে ৬০ ফুট উচ্চতার এই খুঁটিগুলো মাটির গভীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পোঁতা হয়নি। প্রাপ্ত তথ্যমতে, খুঁটিগুলো মাত্র ৩ থেকে ৪ ফুট গভীরতায় স্থাপন করা হয়েছিল, যা প্রকৌশলগতভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মূলত এই অগভীর ভিত্তির কারণেই একটি খুঁটি ভেঙে পড়লে বৈদ্যুতিক তারের প্রবল টানে সারিবদ্ধভাবে অন্য সব খুঁটি উপড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পূর্বেও একই এলাকায় একযোগে ১০টি খুঁটি হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত তদারকির অভাবই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে তারা মনে করেন।
দুর্ঘটনার পর পরই সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে শর্ট সার্কিট ও বিকট শব্দের কারণে এলাকায় চরম ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সড়ক থেকে ভেঙে পড়া খুঁটি ও ছিঁড়ে পড়া তার অপসারণ করা সম্ভব হলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে।