মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সম্ভাব্য হামলা নিয়ে কয়েকদিন ধরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। তবে সামরিক পদক্ষেপ আপাতত না নেওয়ার ঘোষণার পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলা স্থগিতের বার্তা দেওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে নেমে ১০৯ ডলারে দাঁড়ায়। যদিও এই মূল্য এখনো সাম্প্রতিক মাসগুলোর তুলনায় তুলনামূলক বেশি অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেই বিশ্ব জ্বালানি বাজার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত যেকোনো সামরিক বা কূটনৈতিক পরিস্থিতি তেলের সরবরাহব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে কার্যত বাধা সৃষ্টি করে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা দেখা দিলে শুধু তেলের দাম নয়, বৈশ্বিক পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন এবং ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তেলের দামের সাম্প্রতিক পরিবর্তন
| সূচক |
মূল্য |
| ব্রেন্ট ক্রুড সর্বোচ্চ দাম |
১১২ ডলার (প্রতি ব্যারেল) |
| ঘোষণার পর দাম |
১০৯ ডলার (প্রতি ব্যারেল) |
| মূল্য কমেছে |
৩ ডলার |
| হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন |
প্রায় ২০% বৈশ্বিক জ্বালানি |
বিশ্ববাজারে বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা মূলত দুই বিষয়ের দিকে নজর রাখছেন—একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের পরবর্তী অবস্থান, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না। শান্তি আলোচনা বা উত্তেজনা প্রশমনের কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত এলে তেলের বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।