খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদাররা কোনো বাড়ি থেকে বর্জ্য অপসারণের জন্য ১০০ টাকার বেশি বিল বা মাসুল নিতে পারবেন না। তিনি সতর্ক করেছেন যে এই নিয়মের কোনো লঙ্ঘন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সিটি কর্পোরেশন সর্বদা নাগরিকদের পরিষেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নাগরিকদের কোনো সেবার বিপরীতে কেউ অন্যায়ভাবে অর্থ আদায় বা অসদাচরণ করলে, সে যেই হোক, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব বিধিমোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ডিএসসিসির অধীনে থাকা ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ (Primary Waste Collection) সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নতুন করে আবেদন চাওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর খুব শীঘ্রই নতুন ঠিকাদার নিযুক্ত করা হবে।
প্রশাসক বলেন, বর্তমানে কর্মরত সংস্থাগুলোর চুক্তির মেয়াদ আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গতি ও মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অত্যন্ত মানবিক কারণে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পূর্বের ঠিকাদাররা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে অতিরিক্ত মাসুল আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একই হারে চার্জ নিতে হবে এবং বেশি নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
প্রশাসক কোরবানির তথ্য দিয়ে বলেন, গত ঈদুল আজহায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩১৭টি পশু কোরবানি হয়েছে। কোরবানির পর পরই নাগরিকদের এলাকা থেকে পশুর বর্জ্য অপসারণ করে প্রতিটি ওয়ার্ডের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (STS) নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তা ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে মাতুয়াইল স্যানেটারি ল্যান্ডফিলে চূড়ান্তভাবে ডাম্প করা হয়।
তিনি কর্মীদের দৃঢ় মনোবল ও আন্তরিকতাকে এই সাফল্যের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই সাফল্য ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন যেন কোনো বর্জ্য ঠিকাদারের কারণে সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না হয়।
প্রশাসক জানান, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে মশা নিধনের জন্য কীটনাশক ছিটানোর কার্যক্রম অব্যাহত আছে। কোনো এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানো না হলে, তিনি নাগরিকদের কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখায় অভিযোগ জানাতে অনুরোধ করেছেন।
প্রশাসক আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনে বসে প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি বাড়ির খোঁজ-খবর নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে কেউ অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন