খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
টেকসই প্রবৃদ্ধি, গ্রাহক আস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের প্রত্যয় নিয়ে ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে এনসিসি ব্যাংক। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাংকের দীর্ঘ পথচলা, আর্থিক খাতে অবদান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং রূপান্তরমুখী উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। গত ১৭ মে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কেক কাটার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আয়োজনের সূচনা করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ সেলিম।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের অগ্রগতি, সুশাসন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং কাঠামোয় রূপান্তরের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চাকলাদার, সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান তানজিনা আলী, পরিচালক সৈয়দ আসিফ নিজাম উদ্দিন ও মোরশেদুল আলম চাকলাদার, স্বতন্ত্র পরিচালক মীর সাজেদ উল বাসার এবং অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. খোরশেদ আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির আনাম, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও মো. হাবিবুর রহমানসহ প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত শাখা ব্যবস্থাপকেরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই আয়োজনে যুক্ত হন, যা ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ সেলিম তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৯৩ সালের ১৭ মে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এনসিসি ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ৩৩ বছরে ব্যাংকটি সুশাসন, গ্রাহকের আস্থা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ পথচলায় ব্যাংকটি দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক আর্থিক সেবা জোরদারে ব্যাংকটি কাজ করছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চারটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি শাখা এবং ৩২টি ইসলামি উইন্ডো চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিকল্প আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন বলেন, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে ভিত্তি করে এনসিসি ব্যাংক ধীরে ধীরে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং কাঠামোয় রূপ নিয়েছে। তিনি জানান, আমানত ও ঋণ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল রূপান্তর, গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা এবং টেকসই ব্যাংকিংকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী চার বছরের মধ্যে ব্যাংকটি ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। এ রূপান্তর কার্যক্রমকে সফল করতে ব্যাংকটি প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে।
গ্রাহকদের যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে নির্বিঘ্ন ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংকটি এআইভিত্তিক ব্যক্তিগতকৃত ব্যাংকিং সেবা, বাংলা কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা, ভার্চুয়াল কার্ড এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করছে বলে জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এসব উদ্যোগ ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ব্যাংকের শরীআহ্ সুপারভাইজরী কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম বারাকাতী এনসিসি ব্যাংকের অব্যাহত সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও সাফল্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাংকটি কয়েকটি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে পরিবেশগত বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য আয়বর্ধক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার লক্ষ্যেই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
৩৩ বছরের পথচলায় এনসিসি ব্যাংক প্রযুক্তিগত রূপান্তর, গ্রাহকসেবা সম্প্রসারণ এবং শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার যে পরিকল্পনা তুলে ধরেছে, তা ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করছে।