খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
সৌদি আরব কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই আসন্ন হজের প্রস্তুতির জন্য ওমরাহ ভিসার কোটা প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়েছে। এই সিদ্ধান্তে কমে গেছে ওমরাহর ভিসা ইস্যুর সংখ্যা। এজেন্সিগুলো চাহিদানুযায়ী ওমরাহর ভিসা দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছে হাজারো বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী।
সৌদি আরবের সিদ্ধান্তে বিপাকে হাজারো ওমরাহযাত্রী এদিকে এয়ারলাইনসগুলো ফেরত দিচ্ছে না অগ্রিম টিকিটের টাকা। ফলে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে এজেন্সি মালিক-ওমরাহযাত্রীদের। এমন পরিস্থিতিতে আগের মতো ওমরাহর ভিসা ইস্যু করতে রাজকীয় সৌদি আরব সরকারের আশু হস্তক্ষেপ চেয়েছে এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাব। পাশাপাশি সৌদি সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
উল্লিখিত বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, এটি সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়, এখানে বাংলাদেশের কোনো হাত নেই। টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমরা সৌদি সরকারকে অবহিত করব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর পবিত্র রমজানে ওমরাহযাত্রীর চাপ বেড়ে যায়।
এবার অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ইচ্ছা পবিত্র মাহে রমজানে তারা পবিত্র ওমরাহ পালন করবে। সেই অনুযায়ী হাজার হাজার ওমরাহযাত্রী এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে টিকিট বুকিং দিয়ে রেখেছে। সাধারণত রমজানের ২৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে ওমরাহর ভিসা বন্ধ রাখে সৌদি সরকার। এবার কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই গত ৪ মার্চ থেকে ওমরাহর ভিসা প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে সৌদি সরকার। ওই দিন থেকে সৌদির ‘নুসুক’ সিস্টেমে কাঙ্ক্ষিত ওমরাহযাত্রীর ভিসা (মোফা) মিলছে না।
আলফু-জোনায়েদ হজ ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমার এজেন্সির ৩০ জন ওমরাহযাত্রীর আগামী ১৬ মার্চ সৌদিতে যাওয়ার কথা। সে অনুযায়ী আমি তাদের বিমানভাড়াসহ বাড়িভাড়া ও ভিসা বাবদ ৪২ লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন ভিসা না পাওয়ায় তারা আমাকেই দায়ী করছে। তারা টকা ফেরত চাচ্ছে, অথচ এয়ারলাইনসগুলো টিকিটের টাকা ফেরত দিচ্ছে না। ব্যবসার গুডইউল ধরে রাখতে হলে তাদের টাকা আমাকে ফেরত দিতে হবে। নইলে আমার অফিস-বাসাবাড়ি কিছুই রাখবে না তারা। বড়ই বিপদে আছি।’
টিকিটের টাকা কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না, জানতে সাউদিয়ার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) আবু আহমেদ শুভর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে এসএমএস করা হলেও সাড়া মেলেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে এযাবত্ প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব গেছে। তাদের ওপেন পলিসির কারণে পবিত্র রমজানে ধারণক্ষমতার বাইরে কয়েক লাখ লোক মক্কায় প্রবেশ করেছে। মক্কায় ভিড় কমানো বা স্থান সংকুলানের জন্য মোফা ইস্যুর বিষয়টি হ্রাস করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমইউ