খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে অনলাইন খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ সেবা এখন দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনের ধারায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। গত এক দশকে প্রতিষ্ঠানটি দেশের ডিজিটাল গিগ অর্থনীতিতে বড় নিয়োগদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অসংখ্য রাইডারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
ফুডপান্ডা বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে ২০১৩ সালে। এটি জার্মানভিত্তিক ডেলিভারি হিরো গ্রুপের অধীনে পরিচালিত একটি প্ল্যাটফর্ম। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি এশিয়ার প্রায় দশটি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং চারশোরও বেশি শহরে সেবা প্রদান করছে। বাংলাদেশে শুরুতে ঢাকা শহরকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম চালু হলেও পরবর্তীতে এটি চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ বিভিন্ন বড় শহরে বিস্তৃত হয়।
বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ফুডপান্ডা বাংলাদেশে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিশ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ রাইডার হিসেবে নিয়োজিত। হাজার হাজার রেস্তোরাঁ ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সরবরাহভিত্তিক নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম শক্তি। পাশাপাশি দ্রুত বাণিজ্য মডেল চালুর মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহও এখন এর সেবার অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এই খাতের রাইডারদের কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।
রাইডাররা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যস্ত সড়কে কাজ করেন। এতে দুর্ঘটনা, আবহাওয়ার প্রতিকূলতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং আয়ের অনিশ্চয়তার মতো ঝুঁকি বিদ্যমান। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে এই পেশাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ফুডপান্ডা বীমা সেবা প্রদানকারী বীমাফাই-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে একটি স্বল্প খরচের দুর্ঘটনা বীমা চালু করে। এই বীমার প্রিমিয়াম বছরে মাত্র সত্তর টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক কভারেজ পাওয়া যায়, যা দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
বীমা দাবির প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। রাইডাররা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অথবা ডিসপ্যাচ টিমের সহায়তায় দাবি করতে পারেন। তবে এই বীমার আওতায় মোটরবাইক বা ব্যক্তিগত সরঞ্জামের ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত নয়।
নিচে বীমা সুবিধার প্রধান দিকগুলো উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রিমিয়াম | বছরে ৭০ টাকা |
| সর্বোচ্চ কভারেজ | ১,০০,০০০ টাকা |
| প্রযোজ্য ক্ষেত্র | দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতা |
| আংশিক অক্ষমতা সহায়তা | প্রযোজ্য নয় |
| ক্লেইম পদ্ধতি | মোবাইল অ্যাপ ও ডিসপ্যাচ টিম |
| অন্তর্ভুক্ত নয় | মোটরবাইক ও ব্যক্তিগত সরঞ্জামের ক্ষতি |
দুই হাজার পঁচিশ সালের অক্টোবর মাসে ফুডপান্ডা আরও একটি উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-এর সঙ্গে যৌথভাবে এক হাজার শীর্ষ রাইডারের জন্য বিনামূল্যে বীমা সুবিধা চালু করে। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় পাণ্ডা রাইডার্স পার্সোনাল অ্যাক্সিডেন্টাল ইন্স্যুরেন্স।
এই ব্যবস্থায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা এবং আংশিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করা হয়। এটি পারফরম্যান্সভিত্তিক সুরক্ষার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ভালো পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে রাইডারদের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করা হয়।
তবে ব্যবসায়িক দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি চ্যালেঞ্জের মুখেও রয়েছে। একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই হাজার তেইশ সালের শেষে ফুডপান্ডা বাংলাদেশের লোকসান এক হাজার কোটি টাকারও বেশি ছিল। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই খাত এখনো প্রবৃদ্ধির পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাপী ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে রাইডার সুরক্ষা ও অধিকার সংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তনের চাপের মধ্যে রয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে অবস্থান করছে। এই প্রেক্ষাপটে ফুডপান্ডার বীমা উদ্যোগ ভবিষ্যতে রাইডার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।