খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
নীলফামারী সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মো. আবু ত্বহা (৫) নামে এক শিশুর নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের নতিবাড়ী ময়দানপাড়া এলাকার একটি স্থানীয় পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চারদিকে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করার পর অবশেষে এই পুকুরেই মিলল শিশুটির মরদেহ। ৫ বছর বয়সী এই নিষ্পাপ ও অবুঝ শিশুর এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে নতিবাড়ী ময়দানপাড়া এলাকায় চরম শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
সড়ক ও স্থানীয় নদী তীরবর্তী এই গ্রামীণ এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়া শিশু মো. আবু ত্বহা একই এলাকার বাসিন্দা রানার ছেলে। শনিবার দুপুরের পর থেকে হঠাৎ করে শিশুটিকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার এই করুণ পরিণতি ঘটে, যা পরবর্তীতে এলাকায় নানামুখী চাঞ্চল্য এবং গুঞ্জনের জন্ম দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে সবার অলক্ষ্যে এবং পরিবারের লোকজনের অগোচরে খেলাধুলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় শিশু আবু ত্বহা। দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এরপর পরিবারের লোকজন আশেপাশে এবং প্রতিবেশীদের বাড়িতে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরিবারের এই খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয় নতিবাড়ী ময়দানপাড়া এলাকায় একটি তীব্র গুঞ্জন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে এলাকায় কথা ওঠে যে, আবু ত্বহাকে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত কোনো স্থানের দিকে চলে গেছে। এই অপহরণের খবর বা গুঞ্জন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রামবাসী ও যুবকরাও চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তারা সম্মিলিতভাবে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য মহাসড়ক ও বিভিন্ন সংযোগ সড়কসহ সম্ভাব্য সব স্থানে ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম ও তল্লাশি শুরু করেন।
মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার গুঞ্জনের কারণে পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠ, ঘাট এবং রাস্তার দিকে অনুসন্ধানে বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন। ফলে বাড়ির কাছাকাছি থাকা জলাশয় বা পুকুরের দিকে প্রথম দিকে কারও নজর যায়নি। এই বিভ্রান্তির কারণে উদ্ধার তৎপরতা অন্যদিকে ধাবিত হয় এবং মূল ঘটনার স্থানটি চিহ্নিত করতে অনেকটা সময় লেগে যায়, যার ফলে ঘটনাটি দ্রুত সবার নজরে আসেনি।
উদ্ধার অভিযান ও স্থানীয়দের তৎপরতা:
মরদেহ শনাক্তকরণ: চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে নতিবাড়ী ময়দানপাড়া এলাকার একটি পুকুরের পানিতে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা শিশুটির মরদেহ ভেসে থাকতে দেখেন।
পানি থেকে উদ্ধার: পুকুরে লাশ ভাসার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত পুকুর পাড়ে জড়ো হন এবং তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় পানি থেকে শিশু আবু ত্বহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের নিকট হস্তান্তর: পানি থেকে তোলার পর পরিবারের সদস্যরা আবু ত্বহার মরদেহ শনাক্ত করেন এবং বাড়িতে নিয়ে যান।
এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে চওড়া বড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বিটু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে দৃঢ়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে শিশুটি কোনো এক সময় পুকুরের পানিতে পড়ে যায় এবং সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান আরও স্পষ্ট করেন যে, ঘটনার শুরুতেই কে বা কারা মোটরসাইকেলে করে শিশুটিকে তুলে নিয়ে গেছে বলে একটি মিথ্যা গুঞ্জন রটিয়ে দেয়। এই অপহরণের গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে মানুষ অন্যদিকে তথা রাস্তাঘাটে বেশি খোঁজাখুঁজি করার কারণে বাড়ির পাশের পুকুরের দিকে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ তাকায়নি। এই ভুল দিকনির্দেশনার কারণেই ঘটনাটি দ্রুত সবার সামনে ধরা পড়েনি এবং শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং তারা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।