খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সাহসী নেতৃত্বদানকারী, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ-কে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। পারিবারিক সূত্র ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদ একটি উজ্জ্বল ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি ছিলেন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মহানায়ক এবং সেই ছাত্র আন্দোলনের অগ্রসৈনিক, যা বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রামকে নতুন গতি দিয়েছিল। ইতিহাসের সেই উত্তাল সময়ে তিনি ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-এর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণসমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণাটিও তাঁর কণ্ঠেই উচ্চারিত হয়েছিল।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন অন্যতম সংগঠক এবং স্বাধীনতার আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখেন।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা জেলার কোরালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রনেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন এবং ডাকসুর সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
স্বাধীনতার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে শিল্প, বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দৃঢ় নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিতে তাঁকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। স্ট্রোকজনিত কারণে তাঁর শরীরের একটি অংশ অবশ হয়ে গিয়েছিল এবং বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবন, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবিচল অঙ্গীকার জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
একজন সংগ্রামী রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং গণমানুষের নেতা হিসেবে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের ইতিহাসে।
মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা।