খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
চলতি জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম জানান, জুনের প্রথমার্ধের মধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষাকাল সারাদেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বর্ষা শুরু হলেও মাসজুড়ে বৃষ্টিপাতের সার্বিক পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কিছুটা কম থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা পরিমাপের ক্ষেত্রে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং জুনে সম্ভাব্য বিভাগভিত্তিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | আবহাওয়ার উপাদান ও বিভাগসমূহ | তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের বিবরণ |
| ০১ | মৃদু তাপপ্রবাহের মাত্রা | তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। |
| ০২ | মাঝারি তাপপ্রবাহের মাত্রা | তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। |
| ০৩ | চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ | জুন মাসে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত ৬০০ থেকে ৬৩০ মিলিমিটার। |
| ০৪ | বরিশাল বিভাগ | জুন মাসে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত ৪২০ থেকে ৪৭০ মিলিমিটার। |
| ০৫ | রংপুর বিভাগ | জুন মাসে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত ৪০০ থেকে ৪২০ মিলিমিটার। |
| ০৬ | ঢাকা বিভাগ | জুন মাসে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত ৩৩০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার। |
| ০৭ | খুলনা বিভাগ | জুন মাসে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার। |
| ০৮ | রাজশাহী বিভাগ | জুন মাসে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত ২৭০ থেকে ২৯০ মিলিমিটার। |
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, দেশের কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে এই বৃষ্টি এখনই দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর মতো নয়। রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী ও নেত্রকোনার কিছু স্থানে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সামগ্রিকভাবে দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তাপপ্রবাহ পুরোপুরি প্রশমিত হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঢাকায় এখনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গরমের অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু মিয়ানমার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে, যা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় নিতে পারে।
এছাড়া জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, মাসজুড়ে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমী নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে সারাদেশে গড়ে ২৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। মে মাসে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ১৩ মে দিনাজপুরে মে মাসের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত ১৪৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়। পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বালী বায়ুর সংযোগের কারণে মে মাসে দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টি দেখা গেছে।
মে মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৮ মে চুয়াডাঙ্গায়, যা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ মে সিলেটে, ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সামগ্রিকভাবে মে মাসে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল।
দেশের নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুনে প্রধান নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।