খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্টে’ কাল রাতে স্বাগতিক মালদ্বীপের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মাথায় নিয়ে খেলতে নেমেছিল মারুফুল হকের শিষ্যরা। তবে নির্ধারিত খেলার শেষ মুহূর্তে রেফারি সেকারান সেন্থিলনাথনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মাঠে নজিরবিহীন উত্তেজনা, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে বাংলাদেশের খেলোয়াড় আল-আমিন ও মিরাজুল ইসলাম লাল কার্ড দেখেন এবং ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রতে সমাপ্ত হয়।
ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে জয়ের বিকল্প নেই—এমন সমীকরণ নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ দল ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায়। খেলার ১৩ মিনিটে একটি পেনাল্টি থেকে গোল করে স্বাগতিক মালদ্বীপ এগিয়ে যায়। এরপর প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে বাংলাদেশ দল একটি পেনাল্টির জোরালো দাবি তুললেও রেফারির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ দল ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে। এরই একপর্যায়ে মালদ্বীপের এক ডিফেন্ডারের হ্যান্ডবলের কারণে বাংলাদেশ পেনাল্টি লাভ করে। প্রাপ্ত সুযোগ থেকে স্পট কিকে নিখুঁত শটের মাধ্যমে দলকে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান মিরাজুল ইসলাম। সমতায় ফেরার পর জয়সূচক গোলের খোঁজে বাংলাদেশ একের পর এক আক্রমণ চালালেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি।
ম্যাচের মূল নাটকীয়তা ও বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয় যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম)। বল দখলের লড়াইয়ের সময় বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদের সঙ্গে সংঘর্ষে মালদ্বীপের হাসান ইনাজ মাটিতে পড়ে যান। রেফারি সেন্থিলনাথন তাৎক্ষণিকভাবে মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দিলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম। এরপর মাঠের ভেতরে রেফারির সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা করায় লাল কার্ড পান ফরোয়ার্ড আল-আমিন। কার্ড দেখার পর আল-আমিন নিজের মেজাজ ধরে রাখতে না পেরে রেফারিকে ধাক্কা দেন।
কিছুক্ষণ হট্টগোলের পর খেলা পুনরায় শুরু হলেও মাঠের উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। কিছু সময় পর বাংলাদেশ অর্ধে বল দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপের ইব্রাহিম নাসির ও বাংলাদেশের মনজুরুর রহমান বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়েরা সেখানে জড়ো হয়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত হন। মাঠের এই উত্তাপ গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত দুই দলের কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
পুরো ঘটনার জন্য রেফারিকে দায়ী করে বাংলাদেশ দলের গোলকিপার আসিফ ভূঁইয়া মুঠোফোনে জানান, রেফারির কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণেই খেলোয়াড়েরা মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হওয়া সত্ত্বেও মাঠে মালদ্বীপের পুলিশ বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, মাঠে দর্শক প্রবেশ করে এবং মালদ্বীপের কোচও মারামারিতে অংশ নেন, যা কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে কাম্য নয়।
এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বাকি তিন দল তাদের সিনিয়র জাতীয় দল পাঠালেও বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল তাদের অলিম্পিক দল (অনূর্ধ্ব-২৩) নিয়ে। বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই ড্র করেছে। দিনের অন্য ম্যাচে পাকিস্তান ২-০ গোলে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। বাংলাদেশ এই ম্যাচে জয় লাভ করলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে যেতে পারত। তবে ম্যাচটি ড্র হওয়ায় ৪ পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তান ফাইনালে খেলার সুযোগ পায়।
নিচে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ও ম্যাচ সংক্রান্ত তথ্যের একটি বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| টুর্নামেন্টের নাম | ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্ট (মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি) |
| বাংলাদেশ দলের ধরন | অলিম্পিক দল (অনূর্ধ্ব-২৩) |
| বাংলাদেশ বনাম মালদ্বীপ ম্যাচের ফলাফল | ১-১ (ড্র) |
| বাংলাদেশের গোলদাতা | মিরাজুল ইসলাম (পেনাল্টি থেকে) |
| লাল কার্ড প্রাপ্ত খেলোয়াড় (বাংলাদেশ) | মিরাজুল ইসলাম এবং আল-আমিন |
| বাংলাদেশের ম্যাচ রেফারি | সেকারান সেন্থিলনাথন |
| বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট ও অবস্থান | ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট (৩টি ড্র) |
| ফাইনালে উত্তীর্ণ দুই দল | পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান |
ম্যাচের শেষ মুহূর্তের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারেনি এবং ৪ পয়েন্টধারী আফগানিস্তান রানার্স-আপ হিসেবে ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে।