খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
বিগত ২০২২ সালের বিশ্বসেরার খেতাব অর্জন করার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে চলেছে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া সর্বমোট ৪৮টি দেশের মধ্যে ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষকে কোনো গোল করতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে লিয়োনেল স্কালোনির দল সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ব্রাজিলের স্বনামধন্য ক্রীড়া গণমাধ্যম গ্লোবো স্পোর্তের প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যানভিত্তিক শাখা ‘গাতো মেস্ত্রে’ কর্তৃক ২০২৩ সাল থেকে সংগৃহীত ও বিশ্লেষিত তথ্যের ভিত্তিতে এই চিত্রটি সামনে এসেছে। এই নির্দিষ্ট সময়চক্রে দলগুলোর রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্সের যে হিসাব নিকাশ করা হয়েছে, সেখানে সফলতার শতকরা হারে আর্জেন্টিনা বিশ্বমঞ্চের দলগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল চক্রে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল সর্বমোট ৩৯টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ২৮টি ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ গোলহীন রাখতে সক্ষম হয়েছে, যার সফলতার হার ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ। আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে শতকরা হারের দিক থেকে অন্য কোনো দেশ এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এত বেশি ম্যাচে নিজেদের গোলপোস্ট সুরক্ষিত রাখতে পারেনি। কেবল গোল হজম না করার এই বিশেষ হারেই নয়, বরং সামগ্রিক গোল খাওয়ার সংখ্যা বিবেচনা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ সবার ওপরে অবস্থান করছে। লিয়োনেল স্কালোনির নির্দেশিত দলটি ৩৯ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে মাত্র ১৪ বার গোল করার সুযোগ দিয়েছে, যা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কো। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সময়চক্রে মরক্কো যতগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে, তার মধ্যে ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশ ম্যাচে তারা নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে সমর্থ হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট চক্রে মরক্কো সর্বমোট ৫৮টি ম্যাচ খেলেছে, যা আর্জেন্টিনার খেলার সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। বেশি ম্যাচ খেলার কারণে সফলতার শতকরা হারে তারা পিছিয়ে পড়লেও মোট সংখ্যার দিক থেকে আশরাফ হাকিমিরা দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। ২০২৩ সালের এই চক্রে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা বিশ্বের শীর্ষ চারটি দেশের মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া (৬১টি ম্যাচ), সেনেগাল (৬১টি ম্যাচ), দক্ষিণ আফ্রিকা (৬০টি ম্যাচ) এবং মরক্কো (৫৮টি ম্যাচ)।
২০২৩ সাল থেকে বিশ্বকাপের শীর্ষ দলগুলোর গোল হজম না করার সফলতার হার ও পরিসংখ্যান নিচে ছকের সাহায্যে তুলে ধরা হলো:
| দেশের নাম | মোট আন্তর্জাতিক ম্যাচ | গোল হজম না করা ম্যাচের সংখ্যা | সফলতার শতকরা হার |
| আর্জেন্টিনা | ৩৯ | ২৮ | ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ |
| মরক্কো | ৫৮ | ৩৭ | ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশ |
| সেনেগাল | 6১ | তথ্য নেই | ৫৯ শতাংশ |
| জাপান | তথ্য নেই | তথ্য নেই | ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ |
| ডিআর কঙ্গো | তথ্য নেই | তথ্য নেই | ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ |
| ব্রাজিল | ৩৭ | ১১ | ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ |
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এই নির্দিষ্ট সময়চক্রে রক্ষণভাগের দিক থেকে অত্যন্ত হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই পুরো চক্রে তারা মাত্র ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ ম্যাচে নিজেদের জাল সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে। যার ফলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ৪৮টি দেশের তালিকা প্রস্তুত করা হলে গোল হজম না করার এই ক্রমে ব্রাজিলের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৪৩তম। বিগত ২০২২ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ব্রাজিল দল সর্বমোট ৪২টি গোল হজম করেছে, যা ম্যাচপ্রতি গড় হিসাবে ১ দশমিক ১৭টি গোল। দলটির খেলা সর্বমোট ৩৭টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১১টি ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষকে গোলহীন রাখতে পেরেছিল। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ঠিক আগে নিজেদের খেলা সর্বশেষ পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রতিটিতেই কার্লো আনচেলত্তির দল গোল充হজম করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুশীলনরত দলটির এই রক্ষণাত্মক দুর্বলতা ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্টদের।
ব্রাজিল ছাড়াও বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান দাবিদার ফ্রান্স এবং স্পেনের মতো পরাশক্তিদের রক্ষণভাগও এই সময়চক্রে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ হয়েছে। দিদিয়ের দেশমের প্রশিক্ষণে ফরাসি দল তাদের খেলা ৪০টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৮টিতে নিজেদের জাল সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে। অন্যদিকে, ইউরোপের আরেক পরাশক্তি স্পেন তাদের খেলা ৩৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৮টিতে কোনো গোল হজম করেনি। আরেক অন্যতম শক্তিশালী দল পর্তুগাল এই সময়ে সর্বমোট ৪৯টি ম্যাচ খেলে ২৩টি ম্যাচে নিজেদের গোলপোস্ট অক্ষত রাখতে সমর্থ হয়েছে। রক্ষণভাগের এই দুর্বলতার কারণে এই তিনটি শীর্ষ দলই গোল হজম না করার সফলতার তালিকায় প্রথম ১০টি দেশের বাইরে অবস্থান করছে।