খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
নাটোর সদর উপজেলায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ফলে সে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগী কিশোরীর সহপাঠী, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা রাজপথে নেমে এসে তীব্র প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
মামলার বিবরণী এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা ওই ভুক্তভোগী কিশোরীটি শৈশব থেকেই মানসিক প্রতিবন্ধী। সে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশেই অভিযুক্ত ওসমান পাটোয়ারির (৫৬) একটি মুদির দোকান ছিল। প্রতিবেশী এবং চেনা-শোনার সুবাদে ওই কিশোরীটি মাঝেমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বা সাধারণ যাতায়াতের অংশ হিসেবে সেই দোকানে যেত।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরীর এই সরলতা ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ওসমান পাটোয়ারি তাকে বিভিন্ন সময়ে ফুসলিয়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে যেতেন। সেখানে তাকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। সম্প্রতি ওই কিশোরীটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শরীরে বাহ্যিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন যে, কিশোরীটি বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এই তথ্য জানার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে গত ৯ জুন (মঙ্গলবার) রাতে নাটোর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর নাটোর থানা পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মামলার রাতেই পুলিশ সদর উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত ওসমান পাটোয়ারিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে ১০ জুন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিচে ছকের মাধ্যমে মামলার বিবরণ ও অভিযুক্তের সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
| ভুক্তভোগীর পরিচয় | পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী, মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরী |
| অভিযুক্তের নাম ও বয়স | ওসমান পাটোয়ারি (৫৬) |
| অভিযুক্তের পিতার নাম | মতি পাটোয়ারী |
| ঘটনার স্থান | নাটোর সদর উপজেলা, অভিযুক্তের মুদির দোকান |
| ভিকটিমের বর্তমান অবস্থা | আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা |
| মামলা দায়েরের তারিখ | ৯ জুন (মঙ্গলবার) রাতে |
| আইনি পদক্ষেপ | অভিযুক্ত গ্রেফতার এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ |
এদিকে এই অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ১০ জুন (বুধবার) দুপুরে ভুক্তভোগী কিশোরীর বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীরা এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে অভিযুক্ত ওসমান পাটোয়ারির সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসির দাবি জানান। তারা বলেন, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী এবং অবুঝ শিশুর ওপর এই ধরনের নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বক্তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন করে অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ করার সাহস কেউ না পায়।