খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ সংগীতশিল্পী শাকিরা। তিনি এখন পর্যন্ত একমাত্র শিল্পী হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে থিম সং পরিবেশন এবং উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শোতেও তার পারফর্ম করার কথা রয়েছে, যা তার রেকর্ডকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শাকিরার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ দিয়ে। সেখানে তিনি তার জনপ্রিয় গান “হিপস ডোন্ট লাই” এর বিশেষ রিমিক্স পরিবেশন করেন, যা তাকে বৈশ্বিক মঞ্চে নতুন করে পরিচিতি এনে দেয়। এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তিনি অফিসিয়াল থিম সং “ওয়াকা ওয়াকা” পরিবেশন করেন। এই গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল সংগীত পরিবেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে শাকিরা “লা লা লা” গানটি পরিবেশন করেন, যা ফুটবল উদযাপনের আবহকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। সর্বশেষ চলমান বিশ্বকাপে তিনি নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে মিলিতভাবে নতুন অফিসিয়াল থিম সং “ডাই ডাই” পরিবেশন করেন। একই সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও তিনি মঞ্চে পারফর্ম করেন, যা তার রেকর্ডকে আরও ঐতিহাসিক করে তোলে।
শাকিরার এই ধারাবাহিক উপস্থিতি তাকে কেবল সংগীত জগতেই নয়, ক্রীড়া বিনোদনের ইতিহাসেও একটি বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছে। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে বারবার তার অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু একজন গায়িকা নন, বরং বিশ্ব ক্রীড়া সংস্কৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নিচের টেবিলে শাকিরার বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হলো—
| বছর | বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ | গান/পরিবেশনা | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| ২০০৬ | জার্মানি | হিপস ডোন্ট লাই (রিমিক্স) | প্রথম বিশ্বকাপ পারফর্ম |
| ২০১০ | দক্ষিণ আফ্রিকা | ওয়াকা ওয়াকা | অফিসিয়াল থিম সং |
| ২০১৪ | ব্রাজিল | লা লা লা | বৈশ্বিক জনপ্রিয় পারফর্ম |
| চলমান | আয়োজিত বিশ্বকাপ | ডাই ডাই | বার্না বয়ের সঙ্গে সহযোগিতা |
| চলমান | আয়োজিত বিশ্বকাপ | উদ্বোধনী অনুষ্ঠান | চার বিশ্বকাপে পারফর্মের রেকর্ড |
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরে একজন শিল্পীর বারবার অংশগ্রহণ অত্যন্ত বিরল ঘটনা। শাকিরার ক্ষেত্রে এটি শুধু সংগীত পরিবেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে সংগীতের এক অনন্য সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। তার গান ও পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের কাছে বিশ্বকাপের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শাকিরার এই ধারাবাহিক উপস্থিতি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মান ও জনপ্রিয়তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।