রঙের জার্সি পরিহিত এক তরুণ দানবাক্স নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার ভোরে, প্রায় সকাল ছয়টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজবন বিহারের ভিক্ষুসংঘ তখন নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে খাদ্য গ্রহণে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সেই সময় সুযোগ বুঝে অভিযুক্ত তরুণ মূল মন্দিরে প্রবেশ করে দানবাক্সটি তুলে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
তবে তার এ চেষ্টা সফল হয়নি। বিহারে উপস্থিত ভক্ত-উপাসকরা বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং দ্রুত তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অভিযুক্তকে বিহার প্রাঙ্গণেই ধরে ফেলা হয়।
স্থানীয় উপাসক পরিষদের এক সদস্য জানান, আটক তরুণ শুরুতেই নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আর জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তার অনুতাপ এবং অঙ্গীকার বিবেচনা করে বিহার কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত তাকে লিখিত মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়।
অভিযুক্ত তরুণ খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় তার পরনে ছিল ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি, যা ঘটনাটিকে আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজবন বিহার শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এটি রাঙামাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে শত শত ভক্ত ও পর্যটক আগমন করেন। বিহারে থাকা দানবাক্সের অর্থ সাধারণত ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা, বিহারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামাজিক-ধর্মীয় উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়।
ঘটনার পর বিহারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, বিশেষ করে ভোর ও কম ভিড়ের সময়গুলোতে।
বিহার কর্তৃপক্ষও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বাড়ানো হবে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় |
বিবরণ |
| স্থান |
রাঙামাটি, রাজবন বিহার |
| সময় |
বৃহস্পতিবার ভোর, প্রায় সকাল ছয়টা |
| ঘটনা |
দানবাক্স চুরির চেষ্টা |
| অভিযুক্ত |
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার এক তরুণ |
| পোশাক |
ব্রাজিল ফুটবল দলের জার্সি |
| ফলাফল |
হাতেনাতে আটক, পরে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি |
| প্রতিক্রিয়া |
নিরাপত্তা জোরদারের দাবি ওঠে |
এই ঘটনার পর স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় স্থাপনার পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনিক তদারকি আরও জোরদার করা জরুরি।